সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন, প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদে রূপান্তরে সরকারের পাশাপাশি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য যে ভাতা প্রচলিত আছে তা যথেষ্ট নয়। আমাদের এ ভাতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে যাতে সকল প্রবীণ মানুষ উপকৃত হয়।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক। এ সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ বেড়ে ২০ শতাংশেরও বেশি বা পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে। সেই সাথে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধির ফলে এখনকার ৭৪ দশমিক ৯ বছর থেকে তা তখন ৮০ বছর বা এর কাছাকাছি পৌঁছাবে।
মন্ত্রী বলেন, এত বেশি সংখ্যক দীর্ঘ ও দীর্ঘায়ু জীবনকে কেবল সংখ্যা বা বয়স বৃদ্ধির পর্যায় হিসেবে না দেখে, বয়স্কদের স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তরে পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়। অক্টোবর ১ তারিখে ফেনীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান থাকায় এ বছর ৭ অক্টোবর ঢাকায় প্রবীণদের মর্যাদায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উদযাপিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’।
মন্ত্রী আজ (বুধবার) সকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, সবার আগে বাংলাদেশের সাথে এখন সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তেও কাজ করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। এ লক্ষ্যে জীবনচক্রভিত্তিক অর্থাৎ, নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ ও দীর্ঘ জীবন লাভকারী নাগরিকদের জন্য গণতান্ত্রিক, মানবিক সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়িত হচ্ছে। ষাটোর্ধ্ব অবসরে যাওয়া প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণে সরকারি উদ্যোগগুলোও তুলে ধরেন তিনি। তবে, সরকারের একার পক্ষে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সরকারের সাথে সামাজিক উদ্যোগ ও প্রবীণদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
এর আগে সকালে মন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত আগারগাঁও প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সামনে থেকে নবীন-প্রবীণের মিলন মেলা র্যালিতে অংশ নেন।
৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন। বিশেষ আলোচক ছিলেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ সামছুল ইসলাম, মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ ইনতেজার রহমান, সহ সভাপতি মঞ্জু আরা বেগম, কেন্দ্রীয় সদস্য হায়াতুন্নবী, প্রবীণ নারী শিক্ষক মোমেনা খাতুন।
বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নাগরিকেরা এই সভায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাধীন-স্বনির্ভর, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ দীর্ঘ জীবন লাভে নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নানা সুপারিশ তুলে ধরেন আলোচনা অনুষ্ঠানে। বিশেষত তাদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবীণবান্ধব হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনা, মেট্রোরেল-ট্রেন, গণপরিবহন ও বিমানবন্দর, আয়-সঞ্চয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কর্মক্ষমতাহীনদের জন্য সামাজিক সহায়তা বাড়ানো এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ প্রবীণদের কল্যাণে যাবতীয় আইন, বিধি-বিধান ও কর্মকৌশল প্রয়োগের আহ্বানও জানান তারা।
প্রবীণদের জন্য প্রবীণ অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের দীর্ঘ জীবন প্রত্যাশাগুলো বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জেলা ও উপজেলায় নারীসহ সব প্রবীণের জন্য নতুন শিখন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও খাদ্য ব্যবস্থার বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।




