মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েদুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশ্ত করা হবে না : মৎস্য ও...

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশ্ত করা হবে না : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশ্‌ত করা হবে না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভায় ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এদেশের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় করে আসছে। এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, এ দেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই-আমরা সবাই বাংলাদেশি। তাই দেশপ্রেমকে ধারণ করে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পূজা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া জোরদার করতে হবে। তিনি ভোররাতে নিরাপত্তা ও পাহারা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নারী ও পুরুষের চলাচল ব্যবস্থাপনায় পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সাংসদ সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ