চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৩৫৪ জন কিশোর। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের মুখপাত্র রাসেল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে মোট ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। পরে ২৯৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে হস্তান্তর করা হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে।
অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সন্তান কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে বলা হয়।
পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ বলেছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




