রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান...

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

দেশের ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকাররা। তবে কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ে একটি ছোট্ট প্ল্যাকার্ড।

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘বাবার চাকরি ফিরিয়ে দিন, আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচান।’ প্ল্যাকার্ডটি হাতে নিয়ে মানববন্ধনের সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছিল এক কিশোর। তার চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ, আর কণ্ঠে ছিল বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আকুতি।

সে বলে, আমার বাবার চাকরি ফিরিয়ে দিন। বাবার চাকরি থাকতে আমাদের সবকিছু দিতে পারত। এখন চাকরি না থাকায় আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

কিশোরটির এই আবেদন যেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া হাজারো চাকরিচ্যুত ব্যাংকার পরিবারের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আফরিন বলেন, আমাদের মূল দাবি একটাই- অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। আমরা প্রায় ১০ হাজার ব্যাংকার আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি। গত এক বছর ধরে রাজপথে থেকেও কোনো সুরাহা পাইনি।

আফরিন বলেন, চাকরি না থাকায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। কেউ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছে না, কেউ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছে না। মানুষের মৌলিক অধিকার- চিকিৎসা, শিক্ষা ও খাদ্যের মতো প্রয়োজনীয় বিষয় থেকেও অনেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি নিজেও চার বছর চাকরি করার পর চাকরিচ্যুত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের ন্যায্য চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরেক নারী কর্মকর্তা বলেন, চাকরি হারানোর পর গত নয় মাস ধরে তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের টিউশন ফি দিতে পারছি না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচও বহন করতে পারছি না। যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সকল সুযোগ-সুবিধাসহ দ্রুত চাকরিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, মানবসম্পদ নীতিমালা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যায় চাকরিচ্যুতি, অযৌক্তিক বদলি ও হয়রানির কারণে ব্যাংকগুলোর পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব শুধু চাকরিচ্যুত কর্মীদের ওপর নয়, তাদের পরিবার ও নির্ভরশীল সদস্যদের জীবনেও পড়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ, অযৌক্তিক বদলি, মানসিক ও শারীরিক হয়রানি এবং অন্যায় চাকরিচ্যুতির মাধ্যমে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মহীন করা হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে তারা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুতদের বকেয়া বেতন-ভাতাসহ পুনর্বহাল, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত করা, অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের ভাষ্য, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়; বরং ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তাদের দাবি, চাকরি ফিরে পেলে শুধু তারা নন, তাদের পরিবারগুলোরও অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের অবসান হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ