ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাস ব্যাপি অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৪। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আলদা বানী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ আয়োজন করছে জেনে আমি আনন্দিত। আমি বাঙালি জাতির গৌরবদীপ্ত ভাষার মাসে মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
ভাষা শুধু মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই নয়, মানুষের অস্তিত্বের ধারক-বাহকও। মনের ভাবাবেগ প্রকাশ ও পারস্পরিক যোগাযোগ ভাষার উপর নির্ভর করেই সম্পন্ন হয়। বাঙালি তার আত্মসম্মানের প্রতীক ও মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতেই সংগ্রাম করেছিল। বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য ঢাকার রাজপথে দেশের তরুণ সমাজ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বাঙালি যে ন্যায্য সংগ্রামের জন্ম দিয়েছিল তার বার্তা আজ সারাবিশ্বে পৌঁছে গেছে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির হয়েও এখন বৈশ্বিক।
একুশের চেতনাদীপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ বাংলা মায়ের জন্য জীবন দানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা ; একই সঙ্গে মাতৃভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশের অঙ্গীকার। এই গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে যে মিলনমেলা ঘটে তা দেশ-বিদেশের সকল মানুষকে প্রাণের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। বিশ্বব্যাপী বাঙালি সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান বিকাশেও এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৪’ ও অনুষ্ঠানমালার সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
প্রধানমন্ত্রী : প্রধন্মন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। বাঙালি জাতি ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের ঐতিহাসিক নির্বাচন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছে কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে প্রবর্তন করেছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। শুধু গ্রন্থকে উপলক্ষ্য করে মাসব্যাপী এমন মেলার দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল। এটি আমাদের জন্য পরম আনন্দের, অত্যন্ত গৌরবের।
মাসব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ গ্রন্থমেলা আমাদের জাতীয় মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বৃহত্তর সাংস্কৃতিক মেলায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রসরমানতা নিশ্চিত হচ্ছে। এ গ্রন্থমেলা অর্থনৈতিকভাবেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় তা আমাদের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অবদান রাখছে বলে আমার বিশ্বাস। আমি বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালা ২০১৪’ এর সার্বিক সাফল্য কমনা করছি।




