সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদে থেকে কেউ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। পদত্যাগ বা অবসরের পর তিন বছর অতিক্রান্ত হতে হবে।
আন্না মিনজ জানান, তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন, ব্র্যাকের প্রধান নির্বাহী পদে ছিলেন না। আরপিওতে শুধু প্রধান নির্বাহীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা রয়েছে। পরিচালকরা নির্বাচন করতে পারেন।
আরপিওতে প্রধান নির্বাহী নয়, শুধু নির্বাহী পদের উল্লেখ রয়েছে। তা জানানোর পর আন্না মিনজ বলেন, সিনিয়র ডিরেক্টর বা জ্যেষ্ঠ পরিচালক পদটি নির্বাহী পদ নয়। বেতনভুক্ত চাকরি। জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নির্বাহী পরিচালকের অধীনে চাকরি করেছেন।
ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, ‘লিডারশিপ টিমে’ ছিলেন আন্না মিনজ। শনিবার রাত ১১টার সময়ও তাঁর নাম ও ছবি ছিল। তবে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দেখা গেছে, ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে আর নাম নেই। ২১ এপ্রিল তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি এর আগে পদত্যাগ করেছেন কিনা, তা স্পষ্ট করেননি।
নির্বাচনের হলফনামায় আন্না মিনজ নিজের পেশা সম্পর্কে লিখেছেন, বেসরকারি চাকরিজীবী। তাতে তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ পরিচালক পদে থাকার তথ্য লেখেননি। হলফনামায় ঘোষণা করেছেন, তিনি আরপিওর ১২ ধারা অনুযায়ী অযোগ্য নন। বিদেশি অনুদানে পরিচালিত একটি এনজিওর নির্বাহী বলেন, পরিচালক পদটি নির্বাহী পর্যায়ের। তবে আন্না মিনজের বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।
আন্না মিনজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান বলেন, হলফনামায় প্রার্থীর পেশার পরিচয় রয়েছে। আন্না মিনজ যে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক তা জানতে কিনা– প্রশ্নে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে কাগজ দেখে বলতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং করপোরেট আইন বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, যদি কোনো পরিচালক সার্বক্ষণিক এবং নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করেন, তবে তা নির্বাহী পদ। যদি শুধু পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন, তবে নির্বাহী পদ নয়। সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস পদটি নির্বাহী পদ কিনা, তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। – সমকাল




