জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করীম ও আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অপর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ইমরান এ সিদ্দিক ও শিশির মনির।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট শুনানির জন্য ১ মার্চ দিন রাখেন হাইকোর্ট। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেছিলেন।
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দোলোয়ার হোসেন খান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারপক্ষ থেকে তারা সময় নিয়েছে। কেননা রিট আবেদনের কপি তাদের ছিল না। আদালত শুনানির জন্য রোববার (১ মার্চ) দিন রেখেছেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মুখে সেই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ও দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই জাতীয় সনদ।
জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫–এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়েরের পর আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, রিটে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫–এর কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে রিটে।
রিটে বলা হয়, অন্তর্বতী সরকার কর্তৃক জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গণভোট নির্বাচন অসাংবিধানিক ও অবৈধ। জুলাই জাতীয় সনদের অধীনে গণভোট আয়োজন সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩) (৪) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং আরপিওর ১১ অনুচ্ছেদ বিরোধী।




