ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বিরোধীদলের ডাকা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি সামনে রেখে ঢাকায় ঢুকতে মানুষ, যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর প্রবেশপথ কাঁচপুর, শনিরআখড়া, পোস্তগোলা ব্রিজ, আব্দুল্লাহপুর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এসব স্থানে কাউকে সন্দেহ হলেই পুলিশ আটক করছে অথবা গাড়ি ফেরত যেতে বাধ্য করছে। বাদ পড়ছে না মিডিয়ার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স কিংবা মোটরসাইকেলও। যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করা হচ্ছে।
পল্টনে ঢাকামুখী অভিযাত্রায় অংশ নিতে ঢাকার বাইরে থেকে সংবাদপত্র, প্রেস লেখা গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, মানবাধিকারকর্মী এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেমপ্লেট ব্যবহার করে গাড়ি আসতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এসব গাড়িতে পেট্রোল বোমা, ককটেল, লাঠি এমনকি আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করা হতে পারে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন। 
তবে তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেটের দায়ে রাস্তায় নেমে আসা কিছু মানুষ ছাড়া রাস্তায় তেমন কোনো নেতাকর্মী চোখে পড়েনি। রাস্তায় দু’একটি সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া তেমন কোনো যানবাহনও দেখা যাচ্ছে না।
কাঁচপুর প্রতিনিধি জানান, পোস্তগোলা ব্রিজের দুই পাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সর্তক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করে যাত্রীদের সন্দেহ হলে আটক করা হচ্ছে।
পোস্তাগোলা ব্রিজের দায়িত্বে থাকা একজন র্যাব কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নাশকতা হতে পারে এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে নাশকতাকারিরা আসতে পারে সেজন্যই আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি। তবে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
সাইন বোর্ড এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী কমিশনার নুরুল আমিন বলেন, সমাবেশের নামে নাশকতা চালানোর জন্য ঢাকার বাইরে থেকে লোক আনা হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে সেজন্য পুলিশ সবোর্চ্চ সর্তকাবস্থায় রয়েছে।
সাভার প্রতিনিধি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কার্ড বা ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র ছাড়া কেউকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ব্যরিকেড দিয়ে প্রতিটি মানুষকে তল্লাশি করছে পুলিশ। এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের লোকরাও।
প্রত্যেককে গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে র্যাব-বিজিব। কোনো গাড়ি, এমনকি সন্দেহভাজন সাধারণ মানুষও প্রবেশ করতে পারছেন না ঢাকায়। তবে ঢাকা থেকে যেসব গাড়ি বের হয়ে যাচ্ছে তাদের কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
পথচারীদের ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের পুলিশ বক্সে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উত্তরা দক্ষিণ খান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত সালাউদ্দিন জানান, বিরোধীদলের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য নাশকতার নামে যারা ঢাকায় যাওয়া চেষ্টা করছে তাদের ঠেকাতেই আমাদের এই ব্যারিকেট। মূলত বিরোধীদলের সমাবেশে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সন্দেহে আমরা প্রত্যেককে তল্লাশি করছি।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কমর্চারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি কামারপাড়া থেকে ৪০ টাকা খরচ করে আব্দুল্লাহপুর এসেছি। এখানে এসে একটি গাড়ি ভাড়া করে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। কিন্তু পুলিশ আমার আইডি কার্ড দেখার পরও যেতে দিচ্ছে না। অফিসের গাড়ি না থাকায় আমাকে আমার এ অবস্থা।
এভাবে পায়ে হাঁটা যাত্রীদের দাঁড় করিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। পুলিশের সোজা কথা, এখান দিয়ে ঢাকায় কেউ যেতে পারবে না। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কমর্চারী ও অন্য কাডর্ধারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন। এর বাইরে কাউকে যেতে দেওয়া হবে না।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য অ্যাম্বুলেন্সের দিকেও কড়া নজর রাখছে পুলিশ।
রোববার ভোর থেকেই নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীবগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কসহ রাজধানীতে প্রবেশের একাধিক চেকপোষ্ট বসিয়েছে। ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে তল্লাশি চালিয়ে।




