এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তারিক আফজাল। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য তিনি। রোববার ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এবি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রোববার তারিক আফজাল কানাডা থেকে দেশে ফিরে যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দীর্ঘদিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ জানিয়ে তিনি ছুটি বৃদ্ধি করেন।
ব্যাংকটি কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে তিনি প্রচণ্ড চাপে ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিচারে এককালের জৌলুসপূর্ণ এবি এখন রুগ্ন প্রায় ব্যাংকের উদাহরণ। ব্যাংকটির পেছনে ঘুরতে হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আসছেন থানা পুলিশ। এমন দৃশ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন আমানতকারীসহ গ্রাহকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে ব্যাংকের শাখাগুলোতে।
এনপি নেতা এম মোরশেদ খানের উদ্যোগে ১৯৮২ সালে এবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছিল ২০০১ সাল নাগাদ। ঐ বছর এম মোরশেদ খান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শপথ নিয়ে ব্যাংকের দায়িত্ব দেন ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানের হাতে। তখন থেকেই অনিয়ম ভর করে ব্যাংকটিতে।
২০০৭ সালে চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন ফয়সাল মোরশেদ খান। কিন্তু নেপথ্য কলকাঠি ছিল তারই হাতে। ওয়ান-ইলেভেনের পর একে একে দুর্নীতির পাহাড়ের খোঁজ মেলে এবি ব্যাংকে। ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। চোখ পড়ে বিএনপি নেতার এ ব্যাংকটিতে। অদৃশ্য ইশারায় দুদকের ফাইল চলছিল রকেট গতিতে। দুদকে অর্ধডজন মামলা। ফলে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ধসে যাচ্ছিল বালুর বাঁধের মতো।




