ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
নিখোঁজ থাকার প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পর প্রকাশ্যে এলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। রোববার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে খোঁজ মিলছিলো না জাপা মহাসচিবের। অনেক দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্যে এলেও নিজের গাড়িতে করে নয়, কালোরঙা একটি নতুন পাজেরো গাড়িতে করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন রুহুল আমিন হাওলাদার।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কার্যালয়ে প্রবেশের পর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় এবং একান্ত সচিব ও দলের কোষাধ্যক্ষ মেজর (অব.) খালেদ আক্তারের সঙ্গে বৈঠক করেন জাপা মহাসচিব। বৈঠকে তিনি জাপার বিজয় দিবসের দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করেন বলে জানা গেছে। এর আগে, শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনের পর নিখোঁজ থাকার পাশাপাশি রুহুল আমিন হাওলাদারের ব্যক্তিগত তিনটি সেলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। শুক্রবার রাতে বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন ধরে ব্যস্ত সময় পার করা জাপা মহাসচিব শনিবার সারাদিন অংশ নেননি কোনো কর্মসূচিতেও।
মহাসচিব নিখোঁজ থাকায় দলটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহাসচিবের গাঢাকা দেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আটকের সময় তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। যে কারণে নেতাকর্মীরা ক্ষেপে রয়েছেন।
এমনকি আটকের ২ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অসুস্থ। তাই তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবারও একই কথা বললে সংবাদ সম্মেলনে নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন। এ কারণে তড়িঘড়ি করে শেষ করতে হয় সংবাদ সম্মেলন।
আবার বিকেলে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এরশাদকে আটকের প্রতিবাদে হরতাল দেওয়ার দাবি করেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু মহাসচিব প্রতিবাদ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো কর্মসূচি না দিলে আবারও ক্ষেপে যান নেতাকর্মীরা। এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও মহাসচিব তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এমনকি জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের জন্য যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তাতেও মহাসচিবের স্বাক্ষর রয়েছে। এসব কারণেও তোপের মুখে পড়েন জাপা মহাসচিব।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য সরকারেরও চাপ রয়েছে। জাপা মহাসচিব নিখোঁজ থাকার পর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, শুক্রবার তাকে আটক করা হতে পারে। সব গুঞ্জন ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে আসা জাপা মহাসচিব প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বেলা আড়াইটার দিকে চেয়ারম্যানের কার্যালয়েই অবস্থান করছিলেন।




