ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলে চলমান সঙ্কটের সমাধান হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রবিবার যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গণমাধ্যাম বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এরশাদ বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না এলে আমার দল নির্বাচন করবে না। আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার থেকে আমার দলের নেতারা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রগুলো ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।’ এদিকে সরকারি দলের নেতারা এখনো বলছেন, জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলেই তাদের বিশ্বাস।
এ বিষয়ে এরশাদ বলেন, ‘এটা সরকারের উইশফুল থিংকিং (সরকার এরকমই ভাবতে চায়)। গত চার বছর ধরেই আমি বলে আসছি আমি এককভাবে নির্বাচন করবো। আমি কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হবো না।’ তিনি বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সেরকম কোনো নির্বাচনেও আমি অংশ নেবো না। নির্বাচনের কোনো পরিবেশও নেই।’
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি প্রধান বিরোধী দল। তাদের ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। অশান্তি বন্ধ হবে না। আন্দোলন চলতে থাকবে। মানুষ মরতেই থাকবে। মানুষ জ্বলে মরতে থাকবে। এ অবস্থায় নির্বাচন করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।’
জেনারেল এরশাদ বলেন, ‘আমি আন্দাজ করেছিলাম যে, বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু দলটির ভেতরে ভেতরে অনেকেই নির্বাচনে আসতে চাইছিলো। অনেক প্রার্থী গ্রামে গঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণাও চালাচ্ছিলো যা দেখে তার মনে হয়েছিলো যে, বিএনপি হয়তো শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। সে আশাতেই আমি নির্বাচনে গিয়েছিলাম যার মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের একটা সুযোগ তৈরি হবে।’
সরকারের সঙ্গে শর্ত নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমার কোনো শর্ত ছিলো না।’ কীভাবে বর্তমান সঙ্কটের সমাধান হতে পারে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে না থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারে। কারণ বিএনপির আশঙ্কা নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে থাকলে নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে।’ এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার থেকেও আমার দলের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। সবার পদত্যাগপত্র আমার কাছে জমা আছে। গত শনিবার তারা পদত্যাগপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। সেগুলো নেয়া হয়নি। আজও দলের মহাসচিব গিয়েছিলেন কিন্তু সেসব গ্রহণ করা হয়নি। তাই এখন তারা ডাকযোগে পাঠানোর চেষ্টা করছেন।’ জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা অফিসেও যাচ্ছেন না বলে জানান এরশাদ।




