সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হলেও তাতে আশাবাদী হতে পারছে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। কারণ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নিজেই তার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আশাবাদী না হওয়া সত্ত্বেও নতুন কর্মসূচি দেয়ার ক্ষেত্রে আরো তিন-চার দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি। কোনো সমঝোতা ছাড়া তফসিল ঘোষণা করা হলে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে বিরোধী জোট।
দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার হাইকোর্টে বিএনপির আটক পাঁচ নেতার জামিন আবেদন করা হবে। তাই সোমবার থেকে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার হরতাল না দিয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।
জানা গেছে, সারা দেশে আন্দোলন জোরদার হলেও ঢাকা মহানগর নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাই মহানগরকে আট ভাগ করে আটজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দিকে বিএনপির কাছে তথ্য আছে, তাদের দলের বেশ কয়েকজন নেতা এবং কথিত সংস্কারপন্থী নেতাদের নির্বাচনে আনার চেষ্টা করছে সরকার। এ অবস্থায় বিএনপি সবাইকে রাজপথের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার দলের নেতারা একটি বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সরকার ১৮ দলীয় জোট ভাঙতেও তৎপর। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া নিজে জোট নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হবে না। দলটির কাছে তথ্য আছে, সোমবার তফসিল ঘোষণা করা হবে। তাই ওই দিন থেকেই কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতা ও জোট নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। জানা গেছে, ওই বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী রোববার-সোমবার থেকে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি দেয়ার পরামর্শ দেন অনেকে। কেউ কেউ এবার হরতাল না দিয়ে অবরোধ দেয়ার পক্ষে মত দেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণা করা হলে লাগাতার অবরোধ দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশ অচল করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্দলীয় নিরপে সরকারের দাবিতে এখনো অনড় আছেন খালেদা জিয়া। এমনকি রাষ্ট্রপতি বা স্পিকারের অধীনেও নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে তার।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, সঙ্কট উত্তরণে চলমান আন্দোলন আরো বেগবান হবে। দুয়েকটা গাড়ি ভাঙলে আন্দোলন হবে না। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। বিক্ষোভে ফেটে পড়তে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, আমরা চাই না দেশে ওয়ান-ইলেভেনের মত কোনো সরকার ক্ষমতায় আসুক। তাই আমরা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে এই দাবিতে আমরা এতদিন বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছি। কিন্তু সরকার তাতে কোনো সাড়া না দিয়ে আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা হরতালের পথ বেছে নিয়েছি।
দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরে আন্দোলন চাঙ্গা করতে আট নেতাকে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। ওই আট নেতাকে অঞ্চল ভাগ করে দিয়ে চিঠি দিয়েছেন খালেদা জিয়া। জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান, মির্জা আব্বাস মতিঝিল, খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকার দায়িত্বে থাকবেন। মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুস সালামের দায়িত্ব পেয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তেজগাঁও এবং বনানীর দায়িত্ব পেয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। সাদেক হোসেন খোকাকে সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, বংশাল, গেণ্ডারিয়া ও ওয়ারী এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমান উল্লাহ আমান লালবাগ, নবাবগঞ্জ ও হাজারীবাগ, বরকত উল্লাহ বুলু উত্তরা, উত্তর খান ও দণি খান এবং সালাহউদ্দিন আহমেদকে ডেমরা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই সব এলাকার ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গত নির্বাচনে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের নিয়ে আন্দোলন সমন্বয় করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সহযোগিতা করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




