মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

আজ  সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। এরপর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হচ্ছে।
যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটিগুলোর মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, কঠোর অনুশীলন, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্য নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের চরম পরাকাষ্ঠার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের গৌরব সমুন্নত রাখবে।
‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৩’ উদযাপন উপলক্ষে এক বাণীতে সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় জীবনে আমাদের অহংকার। সশস্ত্র বাহিনীর নিহত সব সদস্যের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং সব সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের সুখ, শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দেবেন।
এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মো. জিয়াউর রহমান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে ফুল দেবেন। তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বৈকালীন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতিগণ, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারগণ, সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টাগণ, বাংলাদেশে নিযু্ক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ঢাকা এলাকার সংসদ সদস্যগণ এবং তিন বাহিনীর সাবেক প্রধানগণ, ২০১১ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, নির্বাচিত রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারীগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং তিন বাহিনীতে চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।ঢাকা (সদরঘাট), নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও মংলায় বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ ২১ নভেম্বর বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ বেতার ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অনির্বাণ নামীয় বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। দৈনিক সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণীপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব-স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব-স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন বলে বাণীতে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৩’ উপলক্ষে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে গৌরবময় ঐতিহাসিক এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর যেসব সদস্য দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান ।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর দেশপ্রেমিক জনতা, মুক্তিবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগে ১৬ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। তাঁর হাতে গড়া সেই বাহিনী আজ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন তাঁদের সকল কর্মকান্ডে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতির পিতার নির্দেশে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং জাতিগঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

তিনি ’সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৩’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

খালেদা জিয়ার বাণী
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সব সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্য ও তাদের পরিবারের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
বাণীতে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশ্ব শান্তি  রক্ষাতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’
সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনীতে কর্মরত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কর্মদক্ষতা ও উঁচুমানের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনছেন। দেশের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সশস্ত্র বাহিনী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্বিধাহীনভাবে সঙ্কট মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, গতিশীল ও দক্ষ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। পরে আমরা সরকারে থাকতে সেসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও একে শক্তিশালী করে তুলতে সচেষ্ট থেকেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ