চট্টগ্রামে উন্নতমানের একটি বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের বিশেষ উদ্যোগে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তাবিত হৃদরোগ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে। আপাতত ভাড়া বাসায় আলোচ্য হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে একটি ভাড়া বাসায় আউটডোর (বহির্বিভাগ) সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে হৃদরোগ হাসপাতালের যাত্রা শুরু করা হবে। পরবর্তী সময়ে জঙ্গল সলিমপুর বা সুবিধাজনক স্থানে স্থায়ী অবকাঠানো নির্মাণ করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রদান করা হবে।
শনিবার দুপুরে সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। সভায় চট্টগ্রামে হৃদরোগ হাসপাতালের যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবকে প্রধান করে হাসপাতালের যাত্রা শুরু করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল না থাকায় হতদরিদ্র মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ঢাকার মতো চট্টগ্রামবাসীদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ জনসংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে বিশেষায়িত হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ছে না। দরিদ্র মানুষের জন্য একটি হৃদরোগ হাসপাতাল খুবই প্রয়োজন। সেই কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন।’ মাহবুবুল আলম বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে ৫০ একর জায়গা নিয়ে একটি হেলথ জোন করার প্রস্তাব করেছি। এখানে হার্ট হসপিটাল, কর্নিয়াসহ বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংলগ্ন একটি ভবনে প্রাথমিকভাবে হৃদরোগ হাসপাতালের যাত্রা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছোট পরিসরে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি ভাড়া বাসায় কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরবর্তী সময়ে জঙ্গল সলিমপুর বা অন্য কোনো জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আউটডোর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে। ইতিমধ্যে অনেকেই চিকিৎসাসেবা প্রদানের মতপ্রকাশ করেছেন। এছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রখ্যাত হৃদরোগ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি প্যানেল করা হবে। সপ্তাহে অন্তত এক-দুই দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে প্রেসিডেন্ট করে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সেক্রেটারি জেনারেল হচ্ছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ। কমিটিতে আছেন ব্যবসায়ী নেতা আবদুস সালাম, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, এস এম আবু তৈয়ব, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম জাহাঙ্গীর, বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আকতার, ডা. তারেক ইকবাল, ডা. এ কে এম নাছির উদ্দিন।
রবিবার বিকেলে অস্থায়ী ভবন পরিদর্শন করেন কমিটির সদস্যরা। কয়েকদিনের মধ্যে ভাড়া ও চুক্তিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কমিটির এক চিকিৎসক। গত ১৩ মে চট্টগ্রামে হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের স্বপ্নের কথা বলেন মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনের সাথে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এই কথা বলেছিলেন তিনি। তাঁর সেই স্বপ্নের হৃদরোগ হাসপাতাল এখন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।




