বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদটপদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি : প্রধানমন্ত্রী...

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই তাঁর সরকার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে।

বুধবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা এটা করেছি। বিদেশি সাহায্যে নয় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হবে, যেটা আজ করা সম্ভব হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করব।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন দুর্নীতির প্রশ্ন তোলে তখন তিনি সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। যা তারা প্রমাণ করতে পারেনি এবং যেটি কানাডা’র আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে- এই সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ ভুয়া এবং মিথ্যা। কিন্তু, সে সময় একটি প্রচন্ড চাপের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে এবং দেশের ভাবমূর্তি নিয়েও নানা ধরনের কথাবার্তা দেশের অনেকে বলেছে।
বাংলাদেশ সম্পর্কে কেউ কোন বিরূপ মন্তব্য করলে তাঁর নিজের কষ্ট হয় সেজন্যই বিশ্বব্যাংকের অভিযোগটিকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই কষ্ট লাগাটা স্বাভাবিক কারণ এদেশের স্বাধীনতার জন্য জাতির পিতা তাঁর সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সন্তান হিসেবে বাবাকে তাঁরা খুব একটা কাছে পাননি। তাই, এই স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে তখন প্রধান কাজই হচ্ছে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা।

তিনি বলেন, নিজের ভাগ্য গড়তে নয় দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তেই তাঁর এই ক্ষমতায় আসা। কিন্তু ‘অপবাদ’ দিতে চেয়েছিল আর সততার শক্তি ছিল বলেই এই চ্যালেঞ্জ নিতে পেরেছিলেন তিনি।
যাতে দেশের মানুষের অফুরন্ত সহযোগিতা পেয়েছেন তাই আজকে পদ্মা সেতুটা আমরা করতে পেরেছি, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল নয়, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারে।
আজকে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের শতকরা ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা এ সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরুতে একটি ভূয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এর অর্থায়ন বন্ধে বিশ্বব্যাংককের পদক্ষেপের পেছনে ঘরের শক্রু ‘বিভীষণকে’ দায়ী করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংককে দোষ দেব না, কারণ ঘরের শত্রু বিভীষণই হয়। আপনারা জানেন যে ড. ইউনুসই এই কান্ডটা ঘটিয়েছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটার জন্য। যে পদ তিনি বয়সের কারণে হারিয়েছিলেন। পরে তিনি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরসহ সকলের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করেও সেখানে পরাজিত হন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ব্যাংকের আইন অনুযায়ী তিনি সে ব্যাংকের এমডি থাকতে না পারাতেই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে অর্থাৎ আমেরিকার সরকারকে দিয়ে সে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বাধ্যকে করে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিতে।
প্রধানমন্ত্রী ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, ’৭৫ এর পরে ক্ষমতা চলে গিয়েছিল মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতে। তারা উর্দি পরে ক্ষমতা দখল করতো আর উর্দি খুলে রাজনিতিবিদ হয়ে যেত। এভাবেই রাষ্ট্রটা চলছিল। ফলে, দেশের উন্নয়ন হয়নি তাদের নিজেদের উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে ১৯ থেকে ২০টি ক্যু হয়েছে, যাতে সব থেকে খেসারত দিয়েছে আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী। তাদের হাজার হাজার অফিসার-সৈনিককে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। বোমাবাজি আর গুলির শব্দ ছাড়া কোন শিক্ষক বা ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুমাতে পারতো না, এটা তাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। পাঠ্যক্রমে ছিল সেশন জট।
সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই তাঁরা একে একে সব জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করে এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে অন্তত এটুকু বলতে পারি যে বাংলাদেশটা বদলে গেছে। দেশে আজ মঙ্গা নেই দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা বিধানের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চয়তা বিধানে তাঁর সরকার কাজ করছে। শিক্ষার হার বৃদ্ধি করে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ