ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পৃথক বাণীতে তারা দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেছেন।
রাষ্ট্রপতির বানীঃ
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এডভোকেট তার বাণীতে বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ বিনির্মাণে ধৈর্য্য ও সহনশীলতা অপরিহার্য। পবিত্র ঈদুল আজহার মহান আদর্শ ও শিক্ষাকে আমাদের চিন্তা ও কর্মে প্রতিফলিত করতে হবে। ত্যাগের এ ঈদ মুসলিম জাতির ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো সংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বুধবার ঈদুল আজহা পালন করবে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবে পশু কোরবানি দেয়া হয়, যার মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের কলুষতাকেই কোরবানি দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ঈদুল আজহা সবার জন্য আনন্দপূর্ণ ও কল্যাণকর হোক।
প্রধানমন্ত্রীর বানীঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে আমি প্রিয় দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলিম ভাই-বোনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। প্রিয়বস্তুকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহীম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর জন্য চিরকালই অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।
এ উৎসবের মধ্য দিয়ে সামর্থ্যবান মুসলমানরা কোরবানির পশুর গোশত আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে সকলের মধ্যে সমতা প্রতিবিধান এবং সহমর্মিতা অনুশীলন করে থাকেন।
আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন এক সুখী-সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
বেগম খালেদা জিয়ার বানীঃ
বিরোধী দল নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় সবার পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পানি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের তীব্র সংকট জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা কোরবানির প্রধান শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধ পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য। খালেদা জিয়া দেশের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দিকে সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করার আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ঈদের এ আনন্দে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে, সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এককাতারে মিলে সবাইকে ঈদের আনন্দ একসঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদুল আজহা প্রতিবছর আমাদের মাঝে ফিরে আসে। কোরবানির যে মূল শিক্ষা তা ব্যক্তিজীবনে প্রতিফলিত করে মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব। বিশ্বাসী হিসেবে সে চেষ্টায় নিমগ্ন থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।
খালেদা জিয়া বলেন, ঈদুল আজহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এ প্রার্থনা জানাই।




