ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
আগামী জাতীয় নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে এখনও ধারণা করতে না পারলেও তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নির্বাচন কমিশন। আর নভেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। তবে কোনো কারণে এই সময়ে তফসিল ঘোষণা না হলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তা করতে হবে।
সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে হবে আগামী নির্বাচন। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, ‘একেবারে শেষ তারিখে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর ভোটের আগে ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে’। শাহনেওয়াজ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত কমিশনের হয়নি’।
সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন ২৪ অক্টোবরের পরই নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি ২৫ জানুয়ারির এক সপ্তাহ আগেও ভোট হয় তাহলেও তফসিলের জন্য সর্বোচ্চ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। যদি আরও এক সপ্তাহ আগে ভোট হয়, তাহলে তফসিল ঘোষণা হতে হবে নভেম্বরেই।
তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীদেরকে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহার এবং প্রচারের জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হয়। নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ জানান, প্রার্থীতা জমা দিতে কতোদিন সময় দেয়া হবে, এ বিষয়ে নির্ধারিত কোনো আইন না থাকলেও সাধারণত সাত থেকে ১২ দিন সময় দেয়া হয়। এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে লাগে আরও সাত থেকে ১২ দিন। এরপর ২১ দিন সময় দেয়া হয় প্রচারে। সব মিলিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ দিন হাতে রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনকে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত সবাই এই নির্বাচনে আসবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন। আর যদি বিএনপি বা তার শরিক দলগুলো না আসে তাহলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ এরই মধ্যে স্পষ্ট করে এ কথা বলেছেন। তবে তিনি আশা করছেন, সরকার এবং বিরোধীপক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা হবে এবং তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন।
তবে বিএনপি এবং তার শরিকরা নির্বাচনে না এলে সে নির্বাচন যে তেমন জমবে না, সে বিষয়টি স্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। তবে বিরোধীপক্ষকে ভোটে আনায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছেন তারা। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কেবল সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেন এবং সে ভূমিকা তারা রাখবেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি-কোনো পক্ষই বাড়তি সুবিধা পাবে না, এই বিষয়টি এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররাও। তবে বিএনপি বলছে, বর্তমান ব্যবস্থায় তারা নির্বাচনে গেলেও সরকার দল বাড়তি সুবিধা পাবে।




