শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনচোখ বেচেঁ থাক চোখের আলোয়-সফল দুই কর্ণিয়া সংগ্রহ সন্ধানী চমেকের

চোখ বেচেঁ থাক চোখের আলোয়-সফল দুই কর্ণিয়া সংগ্রহ সন্ধানী চমেকের

‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে/ অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গানের পংক্তি এটি। মনের চোখ দিয়ে আমরা কল্পনা হয়তো বা করে নিই, তবে যদি কারোর চোখের জ্যোতি নিভে যায়, সেই দুর্ভাগ্যটার অনুভূতি আমাদের যাদের চোখ রয়েছে, তারা কখনোই বুঝতে পারবে না। দেশে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের মধ্যে একটা বিরাট অংশের দৃষ্টি আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব, শুধু কর্নিয়া নামক চোখের সামনে অবস্থিত স্বচ্ছ পর্দাটি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে।

সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিটের রেকর্ড সংখ্যক কর্ণিয়া সংগ্রহের ইতিহাস বহু পুরোনো।কর্ণিয়া সংগ্রহের এ স্হবিরতা কাটিয়ে গতকাল সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংগ্রহ করা হয় ২টি কর্ণিয়া।

জনাব সন্তোষ ভূষণ চৌধুরী, বয়স ৭৮ বছর।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলের এ ভদ্রলোক Chronic Obstructive Pulmonary Disease এ আক্রান্ত হয়ে গতকাল মারা যান Type II Respiratory Failure এর কারণে।জীবদ্দশায় শিক্ষকতায় নিয়োজিত মানবসেবী মানুষটির ইচ্ছা ছিলো মৃত্যুর পর অন্যের মাঝে নিজেকে বাচিঁয়ে রাখা।মৃত্যুর পর বাবার শেষ ইচ্ছাটি পূরণ করলেন তার সন্তান জনাব উজ্জ্বল কান্তি চৌধুরী।যোগাযোগ করলেন সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাথে।হাজির হয় ইউনিটের একঝাক উৎসাহী সন্ধানীয়ান।গভীর রাতে শুরু হয় কর্ণিয়া সংগ্রহের অপারেশন।সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিটের উপদেষ্টা ডাঃ রেজাউল হক টিপু এর সফল অপারেশনে সংগ্রহ করা হয় ২টি কর্ণিয়া।

জনাব উজ্জ্বল কান্তি চৌধুরী সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিটের পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরণের কাজকে স্বাগত জানান।ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাই রাফি বলেন “মরণোত্তর চক্ষুদানে আমরা নিয়মিতভাবে উদ্ধুদ্ধ করছি ঠিকই কিন্তু যথাযথ সচেতনতার অভাব, আইনি জটিলতার জন্য কার্যকর কোন ফল বহুবছর পাওয়া যায়নি”।দীর্ঘ সময় পর কর্ণিয়া সংগ্রহের এমন দৃষ্টান্ত মরণোত্তর চক্ষুদানের আন্দোলনের ভিত্তিকে আরো দৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ইউনিটের সভাপতি তানজিমা নাসরিন উর্মি স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মরণোত্তর চক্ষুদানও একটি সামাজিক আন্দোলনে রুপ নেবে এবং লাখো অন্ধ মানুষ চোখের আলো ফিরে পাবে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য দেশ থেকে কর্ণিয়াজনিত অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি।চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত সিনিয়র চিকিৎসক ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সমিতির দীর্ঘ ৩০ বছরের এ আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৩৬২১১ জন মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকার করেছেন।

মরণোত্তর চক্ষুদান একটি মহৎ সেবা। এই সেবাকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে যেমন প্রয়োজন সচেতনতা তেমন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে সচেতন করতে হবে। তাহলে অন্ধ ফিরে পাবে দৃষ্টি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ