বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই সরকারের সঙ্গে অদৃশ্যভাবে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সুযোগ পেলে অতীতের মতো তারা আবারও খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চাইবেন বলেও আশঙ্কা তার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬ষ্ঠ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে জিয়াসৈনিক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১/১১ তে খালেদা জিয়া যদি বিদেশে যেতেন তবে আজ রাজনৈতিক নাটকের মঞ্চে আমাদের অন্য রূপে পাওয়া যেতো। অনেক দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে তিনি দেশে ছিলেন।
খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব যাদের সামনে খালেদা জিয়াকে বিএনপির রাজনীতি থেকে মাইনাস করার প্রস্তাব দিলেন তারা এখন কোথায়? তারেই এখন খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত, দক্ষিণ হস্ত সেজে বসেছেন।
তিনি বলেন, সামনে কোরবানি ঈদ, কোরবানির গরুও স্বেচ্ছায় কোরবানি হতে আসে না। আমরা কোরবানির কথা বলি। আমার অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কখন তারা খালেদা জিয়াকে ‘কোরবানি’ করতে খড়্গহস্ত হয়ে ওঠে, সেই আশঙ্কা থেকে আমি মুক্ত নই, মুক্ত হতে পারি না।
সরকারের সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতার অদৃশ্য সর্ম্পকের কারণে সরকার এত আস্ফালন করছে অভিযোগ করে গয়েশ্বর বলেন, সরকারের সঙ্গে জনগণ নেই। এক মুর্হুতের জন্যও তারা এ সরকারকে আর দেখতে চায় না।
তারপরও এ সরকার আছে এবং দাপটের সঙ্গেই আছে। এর কারণ কিছু নেতা একদিকে বিএনপির সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করছেন, অন্যদিকে সরকারের সঙ্গেও অদৃশ্যভাবে আছেন। এই কারণেই এখনো সরকারের পতন হচ্ছে না। এদের কারণেই সরকার এত আস্ফালনের সুযোগ পাচ্ছে।
তবে ষড়যন্ত্র যেভাবেই হোক না কেন, তাতে জনগণের আন্দোলন বিফল হবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করে গয়েশ্বর বলেন, বিএনপির সামনে এখন অনেক ফর্মুলা আসবে, সেগুলোকে নিয়েই সরকার পতন নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির নেতারা আন্দোলন রেখে মনোনয়নপত্র পাওয়ার প্রতিযোগিতার লিপ্ত রয়েছেন অভিযোগ করে গয়েশ্বর বলেন, নির্বাচন হবে কি, হবে না, দেশ ঠিক পথে যাবে কি না তার ঠিক নেই। অথচ অনেকেই আন্দোলন বাদ দিয়ে মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত।
সবাইকে আন্দোলনমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে জয়ী হলে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোন পাত্তা থাকবে না। বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে যদি কলাগাছও প্রার্থী হন, তাহলে কলাগাছই নির্বাচিত হবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এস এম আশরাফুলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. আফজাল এইচ খান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন খান প্রমুখ।




