সড়ক দুর্ঘটনার মতো একটি জাতীয় সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সড়ক দুর্ঘটনার হতাহতের বিষয়ে মামলা, চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং ঢাকায় শুক্র ও শনিবার দিনের বেলায় ট্রাক চলাচলের বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২০ জন মারা যাচ্ছে। বছরে সাত হাজার গাড়ি ভাঙচুর হয়। এতে অর্থনৈতিকভাবে দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু সরকার এটিকে সমস্যাই মনে করছে না। সরকার বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে।
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে হবে। এর ফলে অপরাধের প্রবণতা কমবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক-কর্মচারি ফেডারেশনের বৈঠক হয়। ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে হত্যা মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে না। কেউ ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুসহ শ্রমিক নেতারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার কারণে ১৯৮২ সালে প্যানাল কোড-এ ৩০৪ এর (খ) ধারা সংযুক্ত হয়। ওই সময় দণ্ডবিধির এ ধারায় শাস্তির পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং এটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। ৮৪ সালে বাস-ট্রাক মালিক ও চালকদের আন্দোলনে এটিকে জামিনযোগ্য এবং এ শাস্তি সাত বছরে নামিয়ে আনা হয়। ৮৫ সালে আরেকটি সংশোধনীর মাধ্যমে এ শাস্তি কমিয়ে করা হয় তিন বছর।
সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন নিসচা’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এএইচ নোমান ও ব্যরিস্টার মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন।




