ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এমডিজি-৭ বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা অর্জনে আন্তঃসরকার আলোচনার জন্য রাজনৈতিক পটভূমি তৈরিতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অগ্রভাগে থাকবে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘স্পেশাল ইভেন্ট টু ফলোআপ এ্যাফোর্টস মেড টুওয়ার্ডস এচিভিং দ্য এমডিজি’ শীর্ষক অধিবেশনে ভাষণে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা আয়ারল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়ামন গিলমোরের সঙ্গে এই অধিবেশনে কো-চেয়ারম্যান ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমডিজি-৭ বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এমডিজি-১, এমডিজি-২, এমডিজি-৩, এমডিজি-৪, এমডিজি-৫ এবং এমডিজি-৬ পূরণ করেছে অথবা পূরণ করার পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি নিম্নাঞ্চলের উপকূলীয় রাষ্ট্র। এ দেশ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে আসছে। তাই বাংলাদেশের পক্ষে এমডিজি-৭ অর্জন খুবই কঠিন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রশমন ও অভিযোজন নীতির আলোকে আমাদের সরকার ১৩৪ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের অঙ্গন থেকে আমাদের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়া।
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ঐতিহাসিক সহস্রাব্দ ঘোষণার সঙ্গে তার যুক্ত থাকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সে সময় আমি এখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি একটি উন্নয়ন রূপকল্প দেই এবং ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও অসমতা দূরীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করি।’
তিনি বলেন, “২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমি আবারও এখানে আসি এবং বিশ্বকে ক্ষুধা ও অনুন্নয়ন থেকে মুক্ত করতে সহস্রাব্দ ঘোষণাকে মেঘনা কার্টা হিসাবে উল্লেখ করি। আমাদের এমডিজি অর্জনের অভিজ্ঞতা এবং ২০১৫-পরবর্তী এজেন্ডা নিয়ে মতবিনিময়ে এখন আমি এখানে এই বিশেষ ইভেন্টে উপস্থিত হয়েছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০০ সালে সহস্রাব্দ শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে গিয়ে এমডিজিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন এজেন্ডা ও দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেই। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার এমডিজিকে বার্ষিক, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংযুক্ত করে। আমাদের এই কর্মকাণ্ডে সাফল্য লাভ করেছে এবং ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের এই প্রচেষ্টার ফলে ২০১০ সালে আমরা এমডিজি এ্যাওয়ার্ড, ২০১২ সালে ক্ষুধা মুক্তির জন্য আমরা সাউথ-সাউথ এ্যাওয়ার্ড ও এফএও ডিপ্লোমা এ্যাওয়ার্ড লাভ করি।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও সরকারের নীতির কারণে দেশে গড় জিডিপি স্থিতিশীল থাকে। আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি। মাত্র দুই দশকের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নেমে আসে।




