আর্থিকখাতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছে চট্টগ্রামভিত্তিক দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। এবার গ্রুপটি কিনে নিচ্ছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এস আলম বীমা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় অর্ধেক শেয়ার কিনে নিচ্ছে। এটা নিয়ে গ্রুপটি আরো একটি আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পেতে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি ব্যাংক বীমা কিনে অর্থনৈতিক সেক্টরে আলোচনায় রয়েছে এস আলম গ্রুপ। বর্তমানে গ্রুপটির কাছে প্রায় ডজন খানেক ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রাহকের দাবি পরিশোধে গত বেশ ক’বছর ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। লোকসানের কারণে বীমা কোম্পানিটি গ্রাহকের বীমার দাবি পরিশোধ করতে পারছিল না। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির অর্ধেকের মতো শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালক ও চেয়ারম্যান এম ওবায়দুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে ভাল ব্যবসা করতে পারছিল না। গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। কোম্পানির কিছু নিজস্ব সম্পদ বিক্রি করেও দেনার টাকা শোধ করা যায়নি। ফলে টাকার সংকুলান না হওয়ায় কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ১৩ আগষ্ট পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫৪তম বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে।
এস আলম গ্রুপ পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৭৪ লাখ শেয়ার কিনে নিচ্ছে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা। এ শেয়ার প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪৪ শতাংশ। এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ছেলে আহসানুল আলম ও তাদের পারিবারিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব শেয়ার কেনা হচ্ছে।
বর্তমানে এস আলম গ্রুপের অধীনে ফার্ষ্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, নর্দাণ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, এআইবিএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, ফার্র্ষ্ট সিকিউরিটিজ ইসলামি ক্যাপিটাল এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট সহ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের মালিকানা রয়েছে।
২০০০ সালে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স নামে বীমা কোম্পানিটি যাত্রা শুরু করে। ২০০২ সালে এটি রুপান্তরিত হয় ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ। ঢাকা স্টক একচেঞ্জে তালিকা ভুক্ত হয় একই বছরের ৮ এপ্রিল। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ছিল ১০০ কোটি টাকা।




