স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
-আপনি কি নির্বাচন করবেন?
নাজমুল হাসান পাপনের উত্তর-‘দেখি এখনও তো সময় আছে।’
মাস কয়েক আগে বিসিবির গঠনতন্ত্র নিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরীর আনা অভিযোগের জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নির্বাচনের কথা প্রসঙ্গে এমনটাই জানিয়েছিলেন।
কাল দুপুরে সব সংশয় কাটিয়ে দিলেন। সাফ জানালেন-‘হ্যাঁ, আমি বিসিবির নির্বাচন করব।’
বিসিবির নির্বাচনে নাজমুল হাসান পাপন যে অংশ নেবেন সেটা ছিল প্রায় প্রকাশ্য ব্যাপার। তবে নির্বাচন বলেই এখানে নিজে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার একটা ব্যাপার-স্যাপার থাকে।
সে ঘোষণাই কাল দিলেন নাজমুল হাসান। নির্বাচনে নিজের অংশ নেওয়ার কারণটাও জানালেন সেই সঙ্গে-‘এখন পর্যন্ত আমার যা জানা তাতে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। প্রথমে নির্বাচন করব বলে অত চিন্তা ছিল না। আস্তে আস্তে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ওরা যে নোংরামি করছে, মিথ্যাচার করছে তার ভয়ে অনেকে সরে যায়, কেউ সামনে আসতে চায় না। আমি দেখলাম আমি যদি সরে যাই তাহলে ওদেরই জয়জয়কার। আর কেউ ওদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পাচ্ছে না। কাজেই একবার যখন দাঁড়িয়ে গেছি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আছি।’
-ওরা নোংরামি করছে? ওরা কারা?
ফোরাম! ফোরাম!!
নাজমুল হাসানের অবশ্য ফোরাম শব্দটাই উচ্চারণ করতে অপছন্দ। তিনি বলছিলেন-‘ফোরাম বলে তো বিসিবিতে কোনো শব্দই নেই। বিসিবিতে কাউন্সিলর দেয় ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগগুলো। এখানে তো ফোরামের নামই নেই! এখন যদি কিছু নেতা মনে করে তারা ফোরাম নামের একটি সংগঠন করেছেন বলে দেশের সব ক্লাব ও জেলা তাদের হাতের মুঠোয়-তাহলে আমি মনে করি তাদের ধারণায় বড় ভুল। হয়তো এতদিন পর্যন্ত এটাই তারা মনে করে আসছিলেন। তবে এখন দেখা যাবে তাদের কতটা শক্তি আছে।’
বিসিবি সভাপতির উচ্চারণে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জের সুর!
কিছুদিন আগে ফোরামের নেতারা ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করে জানান দেন-বিসিবির নির্বাচনে তারা নাজমুল হাসানকে সমর্থন দেবেন না। আর নাজমুল হাসান কাল বিসিবিতে যাদের সঙ্গে লম্বা সময় ধরে বৈঠক করলেন সেই তারাও কিন্তু এ ফোরামেরই লোক! তাদের মধ্যে একজন আবার পদাধিকার বলে ফোরামের সহসভাপতিও। ৩২ জেলা ও সাত বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার চারজন সাধারণ সম্পাদক এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সব মিলে বৈঠকে প্রতিনিধি সংখ্যা ৪৯ জন। নির্বাচন, ভোটে সংখ্যার হিসাবটাই মূলত গুরুত্বপূর্ণ। সে হিসেবে কালকের বৈঠকের পর নাজমুল হাসান পাপনের পক্ষের লোকজন তৃপ্তির হাসি হাসতেই পারেন।
বিসিবির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকরা এখন ‘দুই ধারায় বিভক্ত’। কালকের বৈঠক তারই প্রমাণ। কয়েক দিন আগেই যে ফোরাম সাফ জানিয়েছে-নাজমুলকে কোনোমতেই সমর্থন নয়। সে সংগঠনেরই আরেকটি অংশ কাল ‘নাজমুল ভাইয়ের ঝাণ্ডা’ তুলে ধরার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ফিরছে। শুধু তাই নয়, ফোরামের ব্যানারে যারা নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলেছে তাদের যোগ্যতা নিয়েও এ সংগঠকরাই প্রশ্ন তুলেছেন-‘ফোরামের নামে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করা হচ্ছে তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এ ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি আমরা প্রত্যাশা করি না। ফোরাম গঠন করা হয়েছে মূলত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ক্রীড়াঙ্গনে যেসব বাধাগুলো আছে সেগুলো চিহ্নিত করা। ফেডারেশনগুলো প্লাস এনএসসির সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা। এটাই মূল লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে ফোরাম সেটা থেকে সরে এসেছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ফোরামের কোনো পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ এ পর্যন্ত আমরা পরিলক্ষিত করিনি। নির্বাচন নিয়ে বিসিবি সে বিভাজন বা বিভক্তি চায় না। ফোরামের মধ্যে যখনই সভা হয়েছিল প্রতিটিতেই কিন্তু জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা আপত্তি উত্থাপন করেছিল।’
ফোরাম নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিত কাউন্সিলর বসানোর জন্য বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে। জেলার ডিসিদের সরকারের ওপর মহল থেকে ফোন করে পছন্দের কাউন্সিলর ঠিক করার তদবির করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গেও কাল মুখ খুললেন নাজমুল হাসান-‘যত সব মিথ্যা অভিযোগ এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা তো এখনও নির্বাচনের জন্য কাউন্সিলরশিপ চাইনি। ফরম পাঠানোই হয়নি। আমি আজ (কাল) এ বৈঠকে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের আশ্বস্ত করে বলেছি, জেলাগুলোর সাধারণ সম্পাদকরা যে নাম দেবেন সেই নামই আসবে। কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে আমাকে বলবেন। আমি সাহায্য করার চেষ্টা করব আপনাদের বাইরে যেন কেউ না আসে। আমি কারও নাম বদলানোর চেষ্টা করছি না। তবে কেউ যদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে সে বাধা অবশ্যই দূর করার চেষ্টা করব।’
কালকের বৈঠকে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকরা একযোগে বিসিবি সভাপতিকে এবারের নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে নাজমুল বলছিলেন-‘আমাকে সমর্থনের জন্য আমি কাউকে বলছি না। আমি সবাইকে বলেছি-ক্রিকেটের যাতে ভালো হয়, ক্রিকেট যার হাতে ভালো হবে বলে আপনারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন-তাকেই সমর্থন দেন।’
বিসিবি সভাপতির সঙ্গে গতকালের বৈঠকে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের যারা যোগ দিয়েছিলেন তারা হলেন-আজম নাসিরউদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক; শামসুল হুদা, রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক; শেখ সোহেল, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা; আমির শেখ শামিম, সহসভাপতি পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা; হারুনুর রশিদ খান হাসান, ফোরামের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা; মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি ও বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর; আলমগীর খান আলো, সাধারণ সম্পাদক বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা; সোহেল আলম চৌধুরী নাদেল, সাধারণ সম্পাদক সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা (পদাধিকার বলে ফোরামের সহসভাপতি); সানি আক্তার বাপ্পা, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা সহসাধারণ সম্পাদক।




