শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদইন্টারভিউএমপি রনিকে নিয়ে ‘তালাশ’ এবং...

এমপি রনিকে নিয়ে ‘তালাশ’ এবং…

নাজমুল হাসান আজম : ‘তালাশ’ ইন্ডিপেনডেন্ট চ্যানেল এর একটি সংবাদ ভিত্তিক অনুষ্ঠান। কিন্তু বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি আতংকের নাম। উক্ত চ্যানেলটি মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা চ্যানেল গুলোর একটি। বিগত কিছু বছর যাবৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একটি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই নতুন টিভি চ্যানেল, ব্যাংক, বীমা, সংবাদপত্র খোলার হিড়িক পরে যায়; যে সংস্কৃতির (অপসংস্কৃতির) শুরুটা হয়েছিল চার দলীয় জোট এর আমল থেকেই। আর যার চুড়ান্ত রূপ দেখা যায় বর্তমান মাহাজোট সরকার এর ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময় পরেই যখন একই সাথে ১০ টি নতুন চ্যানেল ও ১০টি নতুন ব্যাংক খোলার অনুমোদন দেয়া হয়। যদিও প্রথমদিকে সম্পুর্ণ ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়েই চ্যানেলগুলো চালু করা হয়েছিল; তবে বর্তমানে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তেই চ্যানেলগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর এসব চ্যানেল এর মালিকরা বরাবরের মতোই নিজেদের অপকর্মের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এই গণমাধ্যমকে। কিছু কিছু চ্যানেলত গনেশ উল্টে যাবার আগেই এ সরকারের বিরুদ্ধে নেমে পড়েছে।

প্রবাদ আছে- চরিত্রহীনেরও একটা চরিত্র থাকে। কিন্তু কিছু কিছু চ্যানেল মালিকের অবস্থা একদমই তাই। যার উৎকৃষ্ট উদাহরন হচ্ছে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনপ্রিয় তরুণ এমপি গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে দুর্নিতির অভিযোগ এনে ইন্ডিপেনডেন্ট চ্যানেল এ প্রচারিত ‘তালাশ’ এর প্রতিবেদন। মূলত এমপি রনির শক্তিশালী ও ধারালো লেখনীর মাধ্যমে যখন শেয়ার বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারী কথিত দরবেশ এর স্বরূপ এবং সংশ্লিষ্টতা দেশবাসীর কাছে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল ঠিক তখনই এমপি রনির বিরুদ্ধে লুটপাটকারীদের মূল হোতা কথিত দরবেশ তার কাছে থাকা বর্তমান সময়ের সর্বোত্তম অস্ত্র ব্যবহার করতে আর কাল ক্ষেপন করেন নি। তাইতো তারই মালিকানাধীন ইন্ডিপেনডেন্ট চ্যানেল এর তালাশ টিমকে দিয়ে দুর্নিতির অভিযোগের ধু¤্রজাল সৃষ্টি করে একটি নাটক সাজিয়ে এমপি রনিকে অসংযত আচরন করতে বাধ্য করা হল। তালাশ যদি পকৃতপক্ষেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের প্রতিবেদন নিয়ে জনসম্মুখে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের স্বরুপ দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবে- তাহলে তো যারা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কুইক রেন্টাল থেকে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করল, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু না করতেই হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব করল, নতুন টিভি চ্যানেল ব্যাংক-বীমা ব্যবসা চালু করতে যে শত শত কোটি টাকার প্রয়োজন হলো সেসব অর্থ কোন উৎস হতে আসল তা দেশবাসীর নিকট আগে তুলে ধরা উচিত ছিল।

এমপি রনিকে নিয়ে তালাশ যে প্রতিবেদন তৈরী করেছে তাতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ঘন্টার ফুটেজ রয়েছে। কিন্তু তালাশ যে প্রতিবেদন টেলিকাষ্ট করেছে তা মাত্র ৩০ মিনিটের। যার অধিকাংশ সময় জুড়েই উপস্থাপক মঞ্জুরুল করিমকে (সাংবাদিকতায় যাকে নিয়ে এখন অনেক কথাই চালু) দিয়ে আওড়ানো পূর্বনির্ধারিত কিছু বস্তাপঁচা বুলি। যা হলুদ সাংবাদিকতার আশির্বাদে দেশবাসী ইতোপূর্বেই অবগত হয়েছে। দরবেশ ও তার দোসরদের কাংখিত রিপোর্ট তৈরীর লক্ষ্যে সামঞ্জস্য রেখে মূল ফুটেজকে কাটা ছেড়া তথা এডিটিং করে মাত্র ১২ থেকে ১৫ মিনিট এর ফুটেজ রাখা হয়, যার প্রায় পুরোটাই সত্য বিবর্জিত এবং বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। কারন একজন জনপ্রতিনিধি যখন ক্ষমতাসীন দলের এমপি নির্বাচিত হন তখন খুব সাভাবিক ভাবেই নিজ দলীয় মতাদর্শের নেতা-কর্মীদের মধ্য থেকেই একটি প্রতিপক্ষ চক্র বা বলয় তৈরী হয়ে যায়। কিছু সুবিধাভোগী লোক থাকবেই যারা এমপির নিকট হতে তাদের আশানুরূপ সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হয়ে এমপির প্রতি বিরাগ ভাজন হয়ে দলের মাধ্যেই একটি বিরোধী শিবির গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন; এমপি রনির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর তালাশ টিম এই সুযোগসন্ধানী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটিকে পুরোপুরিভাবে কাজে লাগিয়েছে যাতে তাদের কাংখিত প্রতিবেদন তৈরী করার জন্য। এ যেন সোনায় সোহাগা; তালাশ যেমন তাদের (ষড়যন্ত্রমূলক) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের দোসর এর সন্ধান করছিল আর এলাকার ঐসব স্বার্থান্নেষী সংক্ষুদ্ধ (যারা এমপি রনির প্রতি ইতোমধ্যেই বিরাগভাজন হয়েছেন রনির সততা ও আপোষহীন মনোভাবের কারনে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে সুবিধা না করতে পেরে) ব্যক্তিরাও এমন একটি টিভি চ্যানেল বা প্রিন্ট মিডিয়ার (হলুদ) প্রতিনিধি খুঁজছিলেন। তারা যখন অবগত হলেন যে, তালাশ টিম রনির দুর্নিতি বিষয়ক তদন্ত করতে এলাকায় আসছেন তখন তারা যে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন আর ভাবলেন এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।

উক্ত প্রতিবেদনে আলাদীনের চেরাগের তত্ত্বের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে জীবনে প্রথমবারের মত টিভি পর্দায় হাজির হয়ে নিজের বদনখানী আমাদের মত সাধারণ দর্শকদেরকে দেখার সুযোগ করে দিলেন তিনি আর কেউ নন, গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তার কিছুটা ফিরিস্তি যে না দিলেই নয়। যিনি ইতিপূর্বে বহুবার ইউনিয়ন পরিষদ এর মেম্বার/চেয়ারম্যান হওয়ার বাসনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। আবার তিনিই এমপি রনির আশির্বাদে উপজেলা চেয়ারম্যান এর মনোনয়ন লাভ করে রনির ব্যক্তিগত ইমেজ ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন। আর এই উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তার স্বরুপে আবির্ভুত হয়ে নিছক আদর্শগত কারনে বিরোধের দরুন এমপি রনির বিরোধিতা শুরু করলেন। অর্থাৎ এমপি রনি ঐ উপজেলা চেয়ারম্যান এর হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার পথে বাধা প্রদান করলে তিনি বিরোধী পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে গণেশ উল্টিয়ে প্রকাশ্যে এমপি রনির বিরোধিতা করতে শুরু করলেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যেসব সাধারণ লোকজন তার নিকট ঝগড়া, বিবাদ মিমাংসার জন্য আসত তাদেরকে (প্রধান দুই পক্ষকেই) থানায় মামলা করার জন্য প্ররোচিত করতেন এবং দুই পক্ষের নিকট হতেই ঘুষ খাওয়া শুরু করলেন। উপরন্তু থানায় দালালী করে কমিশন খাওয়াও শুরু করলেন। এসব অভিযোগ যখন একের পর এক এমপি রনির নিকট আসতে থাকে তখন এমপি সাহেব এসব না করার জন্য বহুবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। এরপরও যখন তিনি এসব অপকর্ম হতে নিবৃত হলেন না, তখন এমপি মহোদয় তাকে প্রকাশ্যে ভর্তসনা করলেন (ঐসময় যা পত্রিকায় সংবাদও হয়)। আর সেই থেকেই তিনি এমপি রনির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। আর চুড়ান্ত এবং মোক্ষম সুযোগটি তিনি পেয়ে যান যখন তালাশ টিম এমপি রনির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার জন্য তার এলাকায় যায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব এমপি রনিকে অপদস্ত করার জন্য যেসব ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে গেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ যদি পাঠকদের কাছে তুলে ধরা যেত তাহলে তারা কিছুটা ধারনা পেতেন যে একজন ব্যক্তি কতটা নীচ, হীন, অকৃতজ্ঞ ও বিশ্বাষঘাতক হলে এসব কাজ করতে পারেন। আর ইতিহাসের সকল কুখ্যাত যড়যন্ত্রকারীদের নামের সাথে তার নামটিও উচ্চারিত হতো। বরং তার কিছু কিছু ষড়যন্ত্রের কাছে মীর জাফর, ঘষেটি বেগম, খোন্দকার মোশতাক এবং তাহের ঠাকুরদের ষড়যন্ত্রকেও নস্যি মনে হবে। এই সল্প পরিষরে তার ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড বা অপকর্ম সমুহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়াও সম্ভব নয়। সময় ও সুযোগ হলে  সে আলোচনা অন্য কোন লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করব।

প্রতিবেদনে এমপি রনির গ্রামের বাড়ী সরকারি খাস জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বলে যে মিথ্যাচার করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন আবশ্যক বোধ করছি। রিপোর্টে বলা হয়েছে বাড়ীটি ২০০৮ সালে নির্মিত। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে অর্থাৎ রনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে ১/১১ পরবর্তী সেনাশাসিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্মিত। যেখানে মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন এর সরকার সরকারী খাস যায়গায় নির্মিত সকল পাকা, সেমি-পাকা নির্মাণাদী নির্বিচারে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে- যাদের হাত থেকে গ্রাম্য হাট বাজার পর্যন্ত রক্ষা পায়নি- সেখানে ঐ সময়ের কোন রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক প্রভাবহীন একজন সাধারণ ব্যবসায়ী মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন এর ক্ষমতার চরম সময়ে সরকারি খাস জমিতে ২তলা পাকা বাড়ী কীভাবে নির্মাণ করা সম্ভব?

এমপি রনি যদি দুর্নীতি প্রবণই হবেন (যা তালাশ টিম দেশ বাসীকে একরকম জোড় করেই বুঝিয়ে ছাড়বে বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তা নাহলে দর্শক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত একটি রিপোর্ট কেন তারা ১০ এরও অধিক বার সম্প্রচার করবে?) তবে গ্রাম্য বাজারে মাত্র কয়েক শতাংশ জমি দখল করে দুর্গন্ধ ছড়াবেন কেন? ক্ষমতার কিয়দাংশ (অপ) প্রয়োগ করলেই গলাচিপা-দশমিনা অঞ্চলে শত শত একর জমি নিজ নামে করিয়ে নিতে পারতেন। তবে এমপি রনি তা না করলেও চেরাগ তত্ত্বের জনক স্বয়ং উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব কিন্তু সে সুযোগ হাতছাড়া করেন নি। গলাচিপার একজন টিএনওর প্রত্যক্ষ যোগসাজশে চর অঞ্চলে নামে বেনামে কয়েকশো একর খাস জমি নিজের করে নিয়েছেন; যে বিষয়টি নির্বাচনী এলাকার কম-বেশী সকলেই অবগত আছেন। আর এসব অপকর্মে বাধা দেয়ার কারনেই এমপি রনির সাথে তার যত শত্রুতা।

প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে যে, এমপি রনি ১৯৯৩ সন থেকে ব্যবসা করে আসছেন। আবার তারাই বলছে ১৯৯৮ সন পর্যন্ত রনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেছেন। আবার রনির সম্পদশালী হওয়ার সময় হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সন পর্যন্ত ৬ বছর সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা নিজেরাই তথ্যের বিভ্রাট ঘটিয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতেই, ১৯৯৩ সন হতে ব্যবসা শুরু করলে ২০০৪ সন পর্যন্ত ১২ বছর সময়; আর একজন উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী, পরিশ্রমী ও চৌকস ব্যক্তির সৎভাবে ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পেতে এত সময়ও লাগে না। এমপি রনিরও এক্ষেত্রে লাগেনি, তাইতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে আইন বিষয় এর উপর এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি থাকার পরও আইন পেশায় নিয়োজিত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি। এই ঢাকা শহারেই এমন অনেকেই আছেন যারা শিক্ষায়, মেধায় ও যোগ্যতায় এমপি রনির ধারে কাছেও নেই অথচ সৎ উপার্জনের মাধ্যমেই রনির থেকেও কম সময়ে তার থেকেও অধিক সফল ও অধিক সম্পদশালী হয়েছেন, যাদের অতীতের সাথে বর্তমান মেলাতে গেলে অনেকেই বিভ্রান্ত হবেন।

প্রকৃতপক্ষে যাদের চিন্তা- ভাবনা একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ, যারা বিকল্প পথ ব্যতীত দ্রুত অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা ভাবতেও পারেন না, যারা যোগ্যতা বা মেধায় এমপি রনির একটি পশম এরও সমতুল্য নন তাদের কাছে এমপি রনির সম্পদশালী হওয়ার ব্যাপারটি আলাদীনের চেরাগে ঘষা দেয়ার বদৌলতে হয়েছে বলে মনে হতেই পারেন, এতে তাদেরকে বিশেষভাবে দোষ দেয়া যায় না।

যেখানে দুদক তিন বছর যাবৎ তদন্ত করে রনির অর্জিত সম্পদে উল্লেখযোগ্য কোন গড়মিলই খুঁজে পেল না; সেখানে বাংলাদেশের সমস্ত টিভি চ্যানেল এর ক্রাইম রিপোর্টাররা যদি সম্বিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে রনির রনির দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে তাহলেও তিন যুগ সময় অতিবাহিত করার পরও দুর্নিতির টিকিটিও খুঁজে পাবে না এটা অন্তত আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। আর আয়কর সংক্রান্ত যতটুকু অসামঞ্জস্যতার কথা দুদক বলছে সে বিষয়ে বলতে হয় আমার মত নাদানকে দিয়েও যদি পাড়ার বা গলির একটি মুদি দোকানের এক বছরের আয়-ব্যয় এবং তদসংক্রান্ত আয়কর এর উপর নিরীক্ষা করতে দেয়া হয় তাহলে এর থেকেও ঢেড় বেশী অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে; আর নিরীক্ষাকারী বা তদন্তকারী যদি দুদক হয় তবে তো কথাই নেই …………! কর ফাঁকির অভিযোগে ঐ মুদি দোকানদারের চৌদ্দগুষ্ঠীকে চৌদ্দশিকের ভিতরে কম করে হলেও চৌদ্দ বছর থাকার একটা বন্দোবস্ত হয়ে যাবে।

পরিশেষে বলতে চাই, গণমাধ্যম হল জনগণের একটি প্লাটফর্ম। সেখানে যারা দায়িত্বপালন করেন তারা হচ্ছেন জাতির বিবেক। সেই বিবেক বিসর্জণ দিয়ে যারা সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কুলষিত করেন তারা আসলে না এপারে, না পরপারে পারবেন শান্তি ভোগ করতে। হুলুদ সাংবাদিকতার চেয়ে রাস্তায় ভিক্ষে করাও অনেক সম্মানের। তালাশের নামে মানুষের পিছে মিছে কালি দিয়ে যারা দূর্নীতিবাজ লিখতে চান  দোয়া করি সৃষ্টিকর্তা তাদের হেদায়েত করুন।

[নাজমুল হাসান আজম গোলাম মাওলা রনি এমপির ছোট ভাই]

আরও পড়ুন

সর্বশেষ