চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করাতে মাকে নিয়ে নোয়াখালী থেকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে এসেছিলেন নাসির উদ্দিন (৩২)। মা মোবাশ্বেরা বেগম (৬২) অস্ত্রোপচারের পর সকালে বাসায় ফিরে গেছেন। কিন্তু ছেলে আর ফিরতে পারেননি। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে হাসপাতালের সামনেই খুন হতে হয়েছে নাসিরকে। ১৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে নাসিরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাবার পর সকাল ১১টার দিকে তার স্বজনরা এসে নাসিরকে শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) নাজিম উদ্দিন জানান, নাসির উদ্দিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার শাহ আলমের ছেলে। দেড় বছর আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরে নাসির বাড়িতেই থাকতেন। বিবাহিত নাসিরের দুটি ছেলে সন্তান আছে।
নাসিরের চাচা মোহাম্মদ আলী বাদল জানান, এক সপ্তাহ আগে নাসির তার মাকে নিয়ে নগরীর জালালাবাদে তাদের বাসায় আসেন। একদিন পর অপারেশনের জন্য তার মাকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাদলের স্ত্রী এবং নাসির হাসপাতালে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সকালে আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, নাসিরকে নাকি ছুরি মেরেছে। আমি তাড়াতাড়ি হাসপাতালে এলাম। সিকিউরিটিকে জিজ্ঞেস করলাম। তারা বলল, রাত সাড়ে তিনটার দিকে নাসির হাসপাতাল থেকে বের হয়েছিল। এসময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরি মেরেছে। তার মোবাইল নিয়ে গেছে। তবে পকেটে ৮ হাজার টাকা আর পাসপোর্ট ছিল। সেটা নিতে পারেনি।
এস আই নাজিম উদ্দিন বলেন, ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলেছে বলে শুনেছি। সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাদল জানান, সকালে মোবাশ্বেরা বেগমকে হাসপাতাল থেকে তাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রামে নাসিরের বাবা এবং স্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।




