মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা পৌঁছেছে কাশিমপুর কারাগারে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে এ পরোয়ানা পড়ে শোনানো হবে। ১৬ মার্চ সকাল সাড়ে নয়টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে আসা লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানাটি গ্রহণ করেন কাশিমপুর কারাগার, পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক। তিনি জানান, কনডেম সেলে থাকা নিজামীকে কিছুক্ষণের মধ্যেই পড়ে শোনানো হবে।
১৫ মার্চ রাতে দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সঙ্গে যায় নিজামীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ও। এরপরই রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাশিমপুর কারাগারে থাকা নিজামীকে পড়ে শোনাতে পরোয়ানাটি সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আইন অনুসারে কারাগার ছাড়াও এগুলো যাবে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও। এর আগে রাত নয়টার দিকে এ মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে তাতে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক এবং বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
রাত সাতটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে পূর্ণাঙ্গ রায়। রায়ের অনুলিপিসহ অন্য কাগজপত্র পাঠান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। সেগুলো নিয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছে দেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল অরুনাভ চক্রবর্তী। বিকেলে ১৫৩ পৃষ্ঠার এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি রায়ে স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশিত হয় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করতে ১৫ দিনের সময় পাবেন আসামিপক্ষ। বুধবার থেকে এ ১৫ দিনের ক্ষণ গননা শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ রিভিউ আবেদন না করলে আইন অনুসারে দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, রিভিউ হলে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে। রিভিউ খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া ফের শুরু হবে। সেক্ষেত্রে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন আসামি। প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে কিংবা আবেদন করার পর নাকচ হয়ে গেলে চূড়ান্তভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।




