জনসভায় হাছান মাহমুদ বলেন,‘রাজনীতি হচ্ছে জনগণের সেবার জন্য, মানুষ মারার জন্য নয়। রাজনীতি হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য নয়। যারা রাজনীতির নামে মানুষ মারে তাদের সাথে কোন সংলাপ হতে পারে না। তিনি বলেন,‘খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেন। তিনি ওইদিন কেক কাটার নামে এ দেশের মানুষের বুকের উপর চুরি চালান। তবুও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মমতাময়ী মা হিসেবে খালেদা জিয়ার পুত্রের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়াকে নাকি ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। ’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটি কোন ধরণের ইনজেকশন যে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পূর্বে খালেদা জিয়ার ঘুম ধরে আর প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার ঘুম ভাঙ্গে। এটি যে ধরণের ইনজেকশন হোক না কেন দেশে যে অবস্থা শুরু হয়েছে জনগণ বিএনপিকে এখন ইনজেকশন দিবে। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন,‘জনগণ বিএনপির গণবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে। যেখানে বোমা নিক্ষেপকারীদের পাচ্ছে জনতা সেখানে ধরে পুলিশকে সোপর্দ করছে। এখন নিক্ষেপকারীদেরকে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে কিছুদিন পর পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশকারীদেরও গণধোলাই দেওয়া হবে। ’
জননিরাপত্তা রক্ষায় নাশকতাকারীদের গুলি করার ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন,‘ফ্রান্সে পত্রিকা কার্যালয়ে ঢুকে যারা হামলা করেছে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমাদের দেশেও যদি কোন গোষ্টী জন নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, অসহায় মানুষকে বোমা মেরে হত্যা করে তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও জনগণকে রক্ষা করতে গুলি চালাবে। ’
জনসভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতা আমরা দেখিনি। তবে সে সময়ের বর্বরতার কথা লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু বিএনপি জোটের মানুষ মারার এ আন্দোলন ৭১’র বর্বরতাকেও হার মানাবে। বিএনপি নেত্রীর আন্দোলন গণতন্ত্রের পক্ষে নয়, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। তাই এটি আন্দোলন হতে পারে না। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য। ’
তিনি বলেন,‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । ঠিক সে সময় বিএনপি দেশ বিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় কিন্তু জনগণের কথা চিন্তা করে না। ক্ষমতার জন্য দরকার হলে সাধারণ মানুষকেও তারা নির্বিচারে হত্যা করবে। তাই বিএনপি জোটের এ দেশ বিরোধী আন্দোলন ও নাশকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ’
মানুষ হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘পেট্টলবোমায় যারা মারা যাচ্ছেন তাদের মা বাবা ও স্বজনরা কারো কাছে বিচার না দিয়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিচ্ছে। মানুষের অন্তর শুধু এখন আল্লাহর প্রার্থনায় রত। অনেক মানুষ আপনারা পুড়িয়ে মেরেছেন। একটু থামুন। মানুষ মারার কারণে আল্লাহ কি নিষ্ঠুর বিচার করেছে জনগণ তা দেখেছে। তবে এটি ইঙ্গিত মাত্র । তাই এখনো মানুষ মারার রাজনীতি বন্ধের সময় আছে। আপনার যদি আন্দোলন বন্ধ না করেন তবে ১৪ দল জনগণের কাছে যাবে। জনগণ তখন দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবে। এতে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিএনপিকে জাল গুটাতে হবে। ’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বারবার সংলাপের কথা বলে। কিন্তু কি নিয়ে সরকার সংলাপে বসবে। সকালে বিএনপির এক নেতা একটি বিবৃতি দেন তো বিকেলে আরেক নেতা। এভাবে হলে কিভাবে সংলাপ হবে। তাই আপনারা আগে ঠিক করুন কোন বিষয়ের উপর সংলাপ হবে। ঠিক করতে পারলে আগামী ২০১৯ সালের পর নির্বাচনের জন্য সংলাপ হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে নয়। তত্ত্বাবধায়ক চিরতরে এদেশের সংবিধান থেকে চলে গেছে। ’
সমাবেশে সভাপতিত্বে করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন,‘গণতন্ত্রের নামে এদেশের মানুষকে নিয়ে অনেক খেলা করেছে বিএনপি। আর নয়। এ দেশের মানুষ খুন, হত্যা থেকে রক্ষা পেতে চায়। আমরা নাশকতাকারীদের তালিকা তৈরী করেছি। এ নাশকতাকারীদের কারা নির্দেশ দিচ্ছেন এবং কারা অর্থ দিচ্ছেন তাদের নামও আমরা জানি। পর্দার আড়ালে থেকে আর খেলবেন না। আমাদের ছেলেরা ওঁতপেতে আছে। বোমাবাজী বন্ধ না করলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে ধরে রাখতে পারব না। তারা লাঠি নিয়ে যেখানে নাশকতাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের পাবে সেখানে প্রতিহত করবে। ’
মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি জোট হরতাল অবরোধ দিয়ে এ দেশের জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যথা সময়ে পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার সময় কোন বোমাবাজ ও জঙ্গীবাদকে সহ্য করা হবে না। অনেক সহ্য করেছি। সহ্যেরও সীমা আছে। নিজের জীবন বাজি রেখে এ দেশ স্বাধীন করেছি। দরকার হলে এ দেশকে রক্ষা করার জন্য পুনরায় জীবন বাজি রাখব। ’
সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যে দল এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশের এগিয়ে চলাকে বাধা প্রদান করছে। আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। কারণ এ দেশের প্রতি খালেদা জিয়ার কোন টান নেই। আন্দোলনের নামে মানুষ মারার রাজনীতি কোন সভ্য দেশে নেই। ’




