বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতি রোববার সারা দেশের মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে...

রোববার সারা দেশের মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি

অনুমতি না পাওয়ায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির আজকের সমাবেশ হচ্ছে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অনুমতি না পাওয়ায় সমাবেশ স্থগিত করেছে বিএনপি। এ ঘটনার প্রতিবাদে  রোববার সারা দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৭ নভেম্বরকে বিএনপি পালন করে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে। এই দিনটি উপলক্ষে আজ বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল।

সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে শুক্রবার রাতে মহানগর নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আজ বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের বিভিন্ন মহানগর, জেলা সদর ও থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। বৈঠকে কেউ কেউ হরতাল দেয়ার কথা বললেও জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চলার কারণে তা আমলে নেয়া হয়নি।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলু ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। গত ২৭ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় বিএনপি। এর দুই দিন পর ২৯ অক্টোবর ৭ নভেম্বরের সময়সূচি পরিবর্তন করে ৮ নভেম্বর সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবার চিঠি দেয়া হয়। অনুমতির বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের বেইলি রোডের কার্যালয়ে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলু ও মহানগরের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। নেতারা জানান, তারা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। পরে অধস্তন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তারা চলে আসেন। বিএনপির একজন নেতা  বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন শর্তের কথা জানানো হয়। বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পিডব্লিউডির অধীনে। তারা অনুমতি দিলে পুলিশ সমাবেশের নিরাপত্তা দেবে। এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের ভেতরে সভা করা হলেও অনুমতি দেয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়।

এদিকে সন্ধ্যার দিকে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান। সেখানে মঞ্চ তৈরির জন্য আসবাবপত্র আনা হয়। এ সময় পুলিশ অনুমতি ছাড়া মঞ্চ তৈরি না করতে নির্দেশ দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করে সোহেল সেখান থেকে চলে যান। সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সরকার স্বৈরাচারের মতো আচরণ করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলকে সভা সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়া খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সরকার জনগণকে ভয় পায় বলেই সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। এর মধ্য দিয়ে তাদের বাকশালী চরিত্র ফুটে উঠেছে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ