রশিদ আহমদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানতে চেয়েছে। আমরা যা ঘটেছে তা জানিয়েছি। লিখিতভাবে কোন চিঠি বা ফ্যাক্স আসেনি। যদি আসে তাহলে যা ঘটেছে তা লিখিতভাবে জানানো হবে।’
কর্পোরেশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। দণ্ডের বিষয়টি না জানাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও বাধ্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।
কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে খালের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা দিয়ে ও সিটি কর্পোরেশনের নারী কর্মীকে উত্যক্ত করে প্রকাশ্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে দু’বছরের জন্য দণ্ডিত হন চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম। দণ্ডিত আসামীকে গ্রেপ্তার করে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর চান্দগাঁও থানায়। কিন্তু আদালতের রায়কে পাত্তাই দেননি চসিকের কাউন্সিলররা। কাউন্সিলরদের ক্ষমতার দাপটের কাছে হার মেনে চারঘণ্টা পর দণ্ডিত ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন।
নজিরবিহীন এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলে চট্টগ্রামের সর্বত্র। দণ্ডিত আসামীকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে কোন স্পষ্ট ব্যাখা দিতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তারা দণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তবে বুধবার সমঝোতা বৈঠক শেষে মেয়রের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বলেন,‘আমার যা বলার আমি বলেছি। এখন মেয়র আর সচিব মহোদয় বলবেন।’ এদিকে দণ্ডিত আসামীকে ছেড়ে দেয়ায় আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মো.ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, দণ্ড দিয়ে ফিরিয়ে নেয়ার নিয়ম নেই। কথায় আছে, হাকিম নড়ে তো, হুকুম নড়ে না। বিচারক একবার যে হুকুম দিয়েছেন, সেই হুকুম থেকে সরে যাওয়া এখতিয়ার বর্হিভূত। এ বিষয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন আপিল আদালত।
জ্যেষ্ঠ্য আইনজীবী ও সাবেক মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার বলেন, সাজা শুদ্ধ হোক কিংবা অশুদ্ধ হোক, যর্থার্থ হোক কিংবা ভুল হোক-সেটা বিচারের একমাত্র ক্ষমতা আপিল আদালতের। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আপিল করতে পারেন। সেখানেও যদি তার মনে হয় তিনি ন্যায়বিচার পাননি তাহলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে যেতে পারেন।
অ্যাডভোকেট সাত্তারের মতে, সিটি কর্পোরেশনের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ (এ) ধারা মোতাবেক মহানগর দায়রা জজ স্বীয় ক্ষমতাবলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে




