ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
চলতি মাসের শেষে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠনের যে সম্ভাবনা ছিলো তা আপাতত ঝুলে গেছে। এখন ঠিক কবে এই চার্জ গঠন হবে তা নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট সময় পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি যে জামায়াতকেই সুবিধা পাইয়ে দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জনমনে তাই, জামায়াতের বিচার ঝুলে যাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বেশ। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের যথোপযুক্ত শাস্তির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।
যদিও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজসহ প্রসিকিউটরদের একাংশ মনে করছেন, নতুন আইন না হলেও প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও মানবতাবিরোধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার সম্ভব। যে আইনে হিজবুত তাহরীর বা জামায়াতুল মুজাহীদীন এর মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সে আইনেই জামায়াতকেও নিষিদ্ধ করা সম্ভব।
প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ এমন অভিমতের জোরালো প্রবক্তা। এমন অভিমতে তার সঙ্গে আছেন জেয়াদ আল মালুম, রানা দাশগুপ্ত, সুলতান মাহমুদ, তাপস কান্তি বল, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ প্রসিকিউটর।
তারা মনে করছেন, অপরাধী সংগঠনকে শাস্তি দেওয়ার বিরল সুযোগ আছে বাংলাদেশের সামনে। এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কেবল নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালই যুদ্ধাপরাধের দায়ে নাজি বাহিনীর বিচার করার নজির গড়েছে। জামায়াতের বিচার করে এ বিষয়ক দ্বিতীয় নজির গড়ার সুযোগ তাই বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় চার্জ গঠনই ঝুলে গেছে এখন।
মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় এই চার্জ কবে নাগাদ গঠন হতে পারে সে ব্যাপারে এখন আর কোন সুনির্দিষ্ট সময় ধারণা করা যাচ্ছে না।
কারণ, রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের যে আইনজীবী দলটি জামায়াতের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ তৈরির কাজ করছিলেন, তারা সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রসিকিউশনেরই একাংশের হস্তক্ষেপে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র এবং এসব অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতার সাতটি অভিযোগে জামায়াতের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত ২৭ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশনের কাছে।
আইনজীবীদের অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে না হলেও প্রচলিত ফৌজদারি আইনেও জামায়াতকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তারা আরো বলছেন, ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্টে ‘ব্যক্তি’র (পারসন) সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কম্পানি, অ্যাসোসিয়েশন বা ব্যক্তিগোষ্ঠীও ‘ব্যক্তি’ বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আইনে ২০ ধারায় উল্লিখিত ‘ব্যক্তির’ মধ্যে সংগঠনও পড়বে। আর ট্রাইব্যুনালের যেকোনো সাজা দেওয়ার ক্ষমতা আইনেই আছে। কিন্তু এরপরও ফাঁকফোকর গলে জামায়াতের বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। তাই উঠছে আইন সংশোধনের দাবি।
সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ক্ষমতাসীনদের। প্রয়োজন কেবল সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তা নেওয়া সম্ভব না হলে সুবিধা পাবে জামায়াত ও জামায়াত আশ্রিত প্রতিষ্ঠান। তাহলে কি জামায়াতের বিচার আসলেই ঝুলে গেলো?




