ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
গাড়ি নিয়ে যারা হরহামেশা রং সাইড দিয়ে ছুটে যান তাদের ধরার জন্য ব্যবস্থা হচ্ছে এবার। উল্টোদিক থেকে এলেই রাস্তাজুড়ে আড়াআড়ি পেতে রাখা বিশেষ ধরনের প্রতিরোধ ডিভাইসে বসানো পেরেকের মতো লোহার শলাকায় চাকা পাঙ্কচার হবে গাড়ির চাকা। এ ছাড়া এর ওপর দিয়ে চলমান সোজা গাড়িকেও ধীর গতিতে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাফিক কর্মকর্তারা।
ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের সামলাতে না পেরেই এই নীরব অ্যাকশনের ব্যবস্থা নিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগ। উল্টোপথে আসা গাড়ি ঠেকাতে মাসখানেক আগে এই ডিভাইস বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শুক্রবার থেকে তা কার্যকর করা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে হোটেল রূপসী বাংলা থেকে কাকরাইল মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় রমনা পার্কের অরুণোদয় গেটের উল্টোদিকে এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার পর এবং যমুনার সামনে (বর্তমানে ফরেন সার্ভিস একাডেমি) বসানো হয়েছে এ প্রতিরোধ ডিভাইস।
সোজা পথে গাড়ি চালিয়ে গেলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উল্টোপথে এলেই মুসিবত। উপরন্তু গাড়ি ফেঁসে যাওয়া মাত্রই ছুটে আসবে ট্রাফিক পুলিশ। ফেঁসে যাওয়া গাড়ির মালিককে জরিমানা করে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা বসাবে তারা।
ট্রাফিক সাউথ এর এসি (অ্যাডমিন) কাজী আখতার হোসেন জানান, কাকরাইল মসজিদ মোড় থেকে রূপসী বাংলা হোটেলের দিকে যাওয়া সময় অধিকাংশ গাড়ি উল্টোপথে যায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির উল্টোপথে যাতায়াত বন্ধ করতে এ ডিভাইস বসানো হচ্ছে। এই প্রতিরোধ ডিভাইস যন্ত্রের ধারালো কাঁটা ৪৫ মিলিমিটার পর পর বসানো হয়েছে। এটা রাস্তার ওপর সব সময় তিন ইঞ্চি উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। সোজা দিক দিয়ে আসা গাড়ির চাকা এ ডিভাইসের ওপর চাপ দেওয়া মাত্রই ওই কাঁটাগুলো নিচু হয়ে গাড়িকে চলে যেতে দিবে। আর গাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁটাগুলো আবার উচু হয়ে যাবে।
কিন্তু উল্টোদিক দিয়ে আসা গাড়ি (কাকরাইল মসজিদ মোড়) কাঁটার ওপর চাপ দিলেই ডিভাইসের ধারালো কাঁটার সুচালো মাথা চাকার ভেতর প্রবেশ করে টায়ার ও টিউব অকেজো করে দেবে। এই যন্ত্রের প্রতিটি কাঁটা আলাদা আলাদাভাবে বসানো হয়েছে। প্রতিটি কাঁটাকে নিচু করতে আট থেকে দশ কেজি চাপ প্রয়োজন হবে। প্রতিরোধক এই যন্ত্রটি রাস্তার ওপর একটি গতিরোধকের মতো কাজ করবে।




