চট্টগ্রামে অবৈধ সম্পদ গোপনের মামলায় হেফাজত নেতা মুফতি ইজাহারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক। আজ সোমবার এই চার্জশিট দেয় দুদক। দুদক সূত্রে জানা গেছে, মুফতি ইজহারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার কোটি কোটি টাকা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খরচের অভিযোগ আছে। ২০১২ সালের ১৭ মে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা হয় দুদক কার্যালয়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নামে দুদক।
অনুসন্ধানে মুফতি ইজহার ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। অভিযোগের সত্যতা মেলায় বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য গত বছরের ১৭ জুন মুফতি ইজহারকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৪ জুলাই তার বরাবরে সম্পদ বিবরণী ফরম নং-০০০১৪৫৭ সহ সম্পদ বিবরণী নোটিশ ইস্যু করা হয়। দুদক আইনের ২৬ (২) ধারায় তাঁকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
দুদক জানায়, গত বছরের ৪ জুলাই নোটিশটি নিয়ে দুদকের কোর্ট সহকারী মুফতি ইজহারের বাঁশখালীর স্থায়ী ঠিকানায় যায়। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর ওই বছরের ৭ জুলাই দুদকের আরেকজন কোর্ট সহকারী মুফতি ইজহারের লালখানবাজারের আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় যান। সেখানেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তখন মাদ্রাসার হিসাবরক্ষকসহ দুজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী রেখে নোটিশটি মুফতি ইজহারের মাদ্রাসাস্থ বাসভবনের দরজায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি কিংবা নোটিশ দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি।
দুদক আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণী নোটিশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মুফতি ইজহারের বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রামের উপ সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল হক বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন।
এর আগে চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গত বছরের ৭ অক্টোবর মুফতি ইজাহারের লালখান বাজার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হয়। তখন এ ঘটনায় হত্যা, বিস্ফোরকদ্রব্য ও অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।



