রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়হারের বৃত্ত থেকে বের হওয়া হলো না টাইগারদের

হারের বৃত্ত থেকে বের হওয়া হলো না টাইগারদের

রোববারও হারের বৃত্ত থেকে বের হওয়া হলো না টাইগারদের। বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি আত্মসমর্পণের পালক যুক্ত হলো বাংলাদেশ দলের হারের খাতায়। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৫০ রানে হেরেছে টাইগাররা।

পাকিস্তান: ১৯০/৫ (২০ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৪০/৭ (২০ ওভার)
ফল: পাকিস্তান ৫০ রানে জয়ী
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: আহমেদ শেহজাদ (পাকিস্তান)

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। দলের হয়ে ওপেনিং করতে আসেন ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা আহমেদ শেহজাদ এবং ৫২টি টি-টোয়েন্টি খেলা কামরান আকমল। প্রথম তিন ওভার থেকেই দুই ওপেনার তুলে নেন ৩৪ রান। দলীয় ৪৩ রানের মাথায় আব্দুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফেরেন কামরান আকমল।

নবম ওভারের শেষ বলে আবারও পাক শিবিরে আঘাত হানেন রাজ্জাক। তার করা বলে মোহাম্মদ হাফিজের স্ট্যাম্প ভাঙেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। পরের ওভারে উমর আকমলকে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলীয় ৭১ রানে পাকিস্তানের তিন উইকেট পড়ে। এর পর ৮৩ রানের জুটি গড়েন শোয়েব মালিক এবং আহমেদ শেহজাদ। সাকিবের বলে মুশফিকের স্ট্যাম্পিং হওয়ার আগে মালিক করেন ২৩ বলে ২৬ রান। তবেম এক প্রান্তে মারমুখি হয়ে খেলে যান শেহজাদ। একইসঙ্গে টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ানে নিজের প্রথম শতক করে নেন তিনি। প্রথমে ৩০ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ৫৮ বলে করেন সেঞ্চুরি। এর আগে, ২০১৩ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে শেহজাদ করেছিল হার না মানা ৬৪ বলে ৯৮ রান। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ৬২ বলে ১০টি চার আর ৫টি ছয়ের মারে অপরাজিত থাকেন ১১১ রানে।

মাত্র ৯ বলে ২২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ছয় নম্বরে নামা শহীদ আফ্রিদি। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন আব্দুর রাজ্জাক। মাশরাফি বিন মর্তুজা ৪ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে পাকিস্তান করে এক উইকেটে ৫০ রান। প্রথম দশ ওভারে ৭৫ রান আসে দলটির। দলীয় শতক আসে ৭৬ বলে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান করে ১৯০ রান।

জয়ের জন্য ১৯১ রানের বিশাল টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামেন তামিম ইকবাল এবং এনামুল হক বিজয়। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে উমর গুলের বলে বোল্ড হন তামিম ইকবাল। দলীয় ৩০ রানের মাথায় ১৫ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১৬ বলে ১৮ রান করা বিজয়ও সাঈদ আজমলের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে তামিমের পথ ধরেন।

দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে টপ অর্ডার শামসুর রহমান আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দেন রোববার। মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলের আর ৩ রান যোগ হতেই অধিনায়ক মুশফিকও গ্লাভস-ব্যাট গোটাতে বাধ্য হন। দলীয় ৪৭ রানে চার উইকেট হারালে সাকিব এবং নাসির দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন।

৪৪ রানের জুটি গড়ে সাকিব আল হাসান ৩২ বলে দুই চার আর সমান ছয়ে ৩৮ রান করে আউট হয়ে যান। নাসির করেন ১৯ বলে ২৩ রান। এছাড়া, শেষ মুহূর্তে মাহামুদুল্লাহ এবং মাশরাফি প্রত্যেকে ১৭ রান করলেও ১৪০ রানেই থেমে যেতে হয় টাইগারদের। উমর গুল ৩টি এবং সাইদ আজমল ২টি করে উইকেট নেন। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে দুই উইকেটে ৩৬ রান। দলীয় অর্ধশতক আসে ৫৭ বলে। আর শতক আসে ৯৬ বলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ