পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেঘনা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের হাতে। আর মিডল্যান্ড ব্যাংক ছিল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর মেঘনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী। মিডল্যান্ড ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসীন হন একই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর থেকে ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ আরো বেড়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে চালুর সময় উজমা চৌধুরী ছিলেন মেঘনা ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা। ব্যাংকটি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই ব্যাংকটি উজমা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে।
অন্যদিকে আহসান খান চৌধুরীও ২০১৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় উদ্যোক্তা ছিলেন । মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ তার স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক দুটিতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন উজমা চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬০ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীকে কল করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন। পরে কল দিলেও আর রিসিভ করেননি। ব্যাংকটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।
এদিকে আহসান খান চৌধুরী মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৬৭ শতাংশ।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও এমডি ইমতিয়াজ ইউ আহমেদকে ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, একই পরিবারের দুই ভাই-বোন দেশের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। পরিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো সব সময়ই খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। এর আগেও এসব চিত্র দেখা গেছে। – আমার দেশ




