বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......ভয়ঙ্কর মৃত্যুর দেশে এবং অস্থির সময়ে আমরা বসবাস করছি : রিজভী

ভয়ঙ্কর মৃত্যুর দেশে এবং অস্থির সময়ে আমরা বসবাস করছি : রিজভী

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

টিক্কা খান ৭১ সালে অধিকার আদায়ের সংগ্রামরত বাংলাদেশের মানুষকে যেভাবে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেছিলেন একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিরোধী নেতাদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘ভয়ংকর মৃত্যুপুরিতে বসবাস করছি। আজ যার কথা বলছি কাল আরেকজনের কথা বলতে হচ্ছে। বিপন্ন অস্থির সময়ে বসবাস করছি। প্রতিনিয়ত হত্যা করা হচ্ছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। বাতাসে শুধুই লাশের গন্ধ। এতো লাশ রাখবো কোথায়। লাশ দাফন করার আর জায়গা নেই।’

তিনি বলেন, একটি ভয়ঙ্কর মৃত্যুর দেশে এবং অস্থির সময়ে আমরা বসবাস করছি। কারণ আজ দেশে গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই। আমরা গণতন্ত্র বলতে বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বুঝি কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেই স্বাধীনতাকে আজ হত্যা করেছে।

লক্ষ্মীপুরের বিএনপি নেতা ওমর ফারুকের গুম হওয়া প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তাকে র‌্যাব তুলে নেওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ বা হদিস পাওয়া যাচ্চে না। আমরা বিবৃতি দেওয়ার পরও নানাভাবে চেষ্টা তদবির করেও তার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতা জবানকে হত্যা করার হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। আজ তার লাশ পাওয়া গেছে। বিএনপির আরেক নেতা জাহাঙ্গীর আজ ১৫ দিনের মতো নিখোঁজ। এখনও তার হদিস পাওয়া যায়নি।

ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকান্ড ও গুমের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি সবসময় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।

তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করলেও পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বরং ওই সময়ে যারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, তাদের দুস্কৃতিকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। বতর্মানে যারা আন্দোলন করছে তাদেরও এই সরকার সন্ত্রাসী বলছে। মূলত এ সরকারের ওপর টিক্কা খানদের প্রেতাত্মা ভর করেছে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার এটি বলতেই পারে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেছেন, আপনার নির্দেশেই দেশে এত খুন-খারাবি হচ্ছে। আপনার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনীই একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু এরকম ঘটনা আর ঘটার সুযোগ দেওয়া হবে না। মানুষকে রক্ষার জন্য যা যা করা দরকার তা করা হবে, মায়াকান্না করব না।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, সাজানো প্রশাসন দিয়ে যা ইচ্ছা তাই কবে। পিছনে তো একটি শক্তি আছেই-এই মতবাদে চলছে এই সরকার। গোটা দেশকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে শুধু একটি দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও বিএনপি নেতাকর্মীরা কুন্ঠাবোধ করবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, লাশের তালিকা করার সময় কোথায়। বিভিন্ন সংবাদপত্র, মানবাধিকার সংগঠনের প্রকাশিত তথ্যই আমাদের তালিকা। এ তালিকা প্রতিদিনই বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন, শাহাজান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ