বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশকে আলোকিত করার পথে সুদৃঢ়প্রসারী প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসব প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য এবং আরো কি প্রকল্প নেয়া যায় সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ন্যস্ত। বর্তমান সরকার গঠনের পর তিনি বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ে আসেন এবং অফিস করেন।  এ উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনা তার গত মেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাফল্যের জন্য সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন বিদ্যুতের জন্য সারাদেশে হাহাকার ছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দাবী পূরণ করতে গিয়ে কানসাটে অনেক মানুষ মারার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, ৯৬ সালে আমরা ক্ষমতা গ্রহণের আগেও বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৬শ থেকে ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াট করি। সাত বছর পর ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে দেখি উৎপাদন বাড়েনি, কমে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রথম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছি। এ লক্ষ্যে নতুন আইন তৈরি করতে হয়েছে। এখন ৬৯টি প্লান্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। দেশ আজ ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুল সংখ্যক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ব্যাপক আলাপ-আলোচনা করতে হয়েছে। কাজগুলো যাতে যথাযথভাবে হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এর পেছনে যে খাটুনি তা কম লোকেই বোঝেন। যাদের প্রশংসায় এই অর্জন তাদের প্রশংসা কিংবা বাহবা দিতেও অনেকে কার্পণ্য করেন। কিন্তু আমি সব সময় বাহবা দিয়ে থাকি, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া ছিল খুবই কঠিন কাজ।

শেখ হাসিনা বলেন, সঞ্চালন লাইনগুলোও ছিল খুব জরাজীর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই যে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার মত অবস্থাও ছিল না। তাই একই সংগে সরবরাহের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হমিদ, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উজ জামান, ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনের কথা ছিল, কিন্তু আমাদের অর্জন হয়েছে ১০ হাজার মেগাওয়াটের উপরে। অর্থাৎ নির্বাচনী ইশতেহার থেকেও আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখন স্লোগান জ্বলছে আলো, ভাসছে দেশ- আমি এর সাথে যোগ করতে চাই, ঘরে ঘরে আলোর রেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবে। এজন্য গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, নতুন কূপ খনন করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ থেকেও বিদ্যুৎ ক্রয় করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি নিয়ে আসার এবং গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া যেমন- রিনিউয়াল এনার্জি, সোলার এনার্জির ওপর আরো জোর দেয়া হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে ততবেশী দেশের উন্নতি হবে।

আবারো নির্বাচিত করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে শত বাধার মুখেও তারা ভোট দিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারপরও এ দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪০ ভাগের উপর মানুষ ভোট দিয়েছে। আমরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে সরকার গঠন করেছি।

তিনি বলেন, নির্বাচন বাধা দেয়ার জন্য বহু চেষ্টা করা হয়েছে। জনগণ সাড়া দেয়নি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। বোমা মেরে এবং বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে কখনো সাড়া দেয়নি। এজন্য আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, এতে উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত এবং প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য অর্জিত হবে।

বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা একটি বিস্ময়কর ব্যাপার যে বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যা করেছে, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ তা করতে পারেনি। দেশের প্রতিটি মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ