বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......ছাত্রলীগের নেতা জনি হত্যা মামলা : ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

ছাত্রলীগের নেতা জনি হত্যা মামলা : ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবদুল মালেক চৌধুরী ওরফে জনি হত্যা মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য আবু সাহাদাত মো. সায়েম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মহি ও আবু জাহেদ এবং ছাত্রলীগের কর্মী শামীম, কফিল উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফারুককে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা সবাই বর্তমানে পলাতক।
মালেক হত্যাকাণ্ডের পর আবু সাহাদাত মো. সায়েম, মহিউদ্দিন মহি ও আবু জাহেদকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম ফরহাদুল আলম, সদস্য মনির উদ্দিন ও নোমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
গত বছরের ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লায় দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আবদুল মালেক চৌধুরীর ওপর হামলা চালানো হয়। চার দিন পর ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর পরদিন ছাত্রলীগের নয়জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই আবদুল মাজেদ চৌধুরী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম  বলেন, ‘তদন্তে এজাহারভুক্ত ছয় আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ায় মামলার সাক্ষ্য স্মারক (এমই) তৈরি করে মহানগর পিপির মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি তাতে মতামত দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন আরও কয়েকজন কর্মকর্তার মতামত নিয়ে শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’
মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা আবদুল মালেক হত্যা মামলার তদন্তে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে সিআইডি। তাই তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একমত পোষণ করে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সুপারিশ করেছি।’

পিপি তাঁর মতামতে উল্লেখ করেন, ‘মামলার এজাহার, নথি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সুরতহাল প্রতিবেদন এবং অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এজাহারে থাকা নয় আসামির মধ্যে ছয় আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য একমত পোষণ করে মতামত প্রদান করা হলো।’ সিআইডি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দলে আবদুল মালেককে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

আবদুল মালেকের মৃত্যুর পরদিন তাঁর ছোট ভাই নগরের কোতোয়ালি থানায় ছাত্রলীগের নয়জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পাঁচ মাস পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৮ মে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। মামলার বাদী আবদুল মাজেদ চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগপত্র দেওয়ার পর বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আবেদন করব আমরা।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ