ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের গুলি করার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের হাতে আমাদের ছেলেরা প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে।
তাদের হাত থেকে আত্মরক্ষার অধিকার ছাত্রলীগের ছেলেদের আছে। জামায়াত-শিবির ছাত্রলীগের ছেলেদের হাত-পায়ের রগ কাটছে তখনতো এভাবে পত্রিকাগুলোকে সরব হতে দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাছাড়া যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে তারা সবাই ছাত্রলীগের সদস্য না। এদের মধ্যে যারা ছাত্রলীগের তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের আড্ডখানা। সেখানে প্রতিনিয়ত আমাদের ছেলেদের ওপর হামলা হচ্ছে। শিক্ষকদের ওপর হামলা হচ্ছে। ছাত্রলীগের ছেলেদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হচ্ছে। অথচ তাদের ব্যাপারে গণমাধ্যমে কিছু লেখা হয় না। ছাত্রলীগের ছেলেরা আত্মরক্ষার্থে কিছু করলে সেটা নিয়ে লেখা হয়।’
তিনি বলেন, ‘রাবিতে যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে তারা সবাই ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত নয়। ঐদিন সাধারণ ছাত্রদের দাবি মেনে নেয়ায় ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিল করছিল। মিছিলে হামলা হলে ছাত্রলীগ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের যারা হামলার শিকার হচ্ছে, যাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হচ্ছে তারা বাবা-মায়ের সন্তান না? তাদের বিষয়টা নিয়ে কেন লেখা হয় না। তাদের ওপর হামলাকারীদের ছবি কেন ছাপা হয় না? এখনো অনেকেই পঙ্গু হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।’
সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘অপরাধী যে দলের হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবারের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে মঙ্গলবার সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দাবি তোলার পর কথা বলছিলেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে বলেন, সেদিন ছাত্রলীগের ওপরও হামলা হয়েছিল।
কারা হামলা চালিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু প্রধানমন্ত্রী না বললেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ যে মামলা করেছে, তাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করা হয়েছে।
বর্ধিত ফি ও সান্ধ্য কোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা বলেন, “বাম দলগুলোরও দেখা উচিত, তাদের আন্দোলনের নামে করা ঢুকে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের নামে তো শিবিরকে ঢুকতে দেয়া যায় না।”
সংসদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করে চিহ্নিত ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলেন বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সেদিন অস্ত্র হাতে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের যেসব নেতার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তারা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহম্মেদ সেতু, মাহবুবুর রহমান পলাশ,সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমন, আল-গালিব ও ফয়সাল আহম্মেদ রুনু, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাকিন বিল্লাহ ও আগের কমিটির নেতা সুদীপ্ত সালাম।
এর মধ্যে ইমন ও সেতুকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বলেছে, আর কারো দোষ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাজুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বলেন, “শুধু বহিষ্কার করে এর সমাধান হবে না।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এতবড় ধর্মঘট আর কখনো হয়নি। তারা ন্যায্য দাবিতে সংগ্রাম করেছে।” শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে সরকারের প্রতি আহ্ব্ন জানান বিরোধী দলের এই নেতা। “যদি সেখানে শিবির থেকে থাকে, তবে তাদের চিহ্নিত করা হোক,” বলেন এই জাপা নেতা।
বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনা উদঘাটনে সরকারের প্রচেষ্টা রয়েছে। শাস্তি বিচারের মাধ্যমে করতে হয়।”




