সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে ভারত থেকে ফিরেছি, আটকে রাখার কথা সঠিক নয় : জাহেদ...

তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে ভারত থেকে ফিরেছি, আটকে রাখার কথা সঠিক নয় : জাহেদ উর রহমান

ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে ‘তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সেই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরে এসেছি। তবে আটকে রাখার কথা সঠিক নয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ওখানে ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গেছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে ইন্সট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণে আমি আসলে ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা পর্যায়ে তারা খুব চেষ্টা করেছে যেন আমি ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার যে নিয়মিত কর্মকাণ্ড সেটা আর করিনি। কারণ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তখন আমার মনে হয়েছে রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ— এই নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যেক দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এনগেজমেন্ট হবে। কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে কিংবা নিজের ক্ষতি করে কাউকে সুবিধা দেয়ার নীতিতে সরকার যাবে না।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ ঘটনা দুদেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিৎ না। রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আমি নিয়েছি। পরবর্তী বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে, যা যা করণীয় তারা করছেন। সরকার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। এ ঘটনা দুদেশের ভবিষ্যৎ এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না।

প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না, এ কথাটি ভারতের জন্যও প্রযোজ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ভারতের সরকার ব্যাপারটা বোঝেন এবং বুঝবেন। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, যে সরকার দুই তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট পেয়েছে, তার সঙ্গে আত্মমর্যাদা ঠিক রেখে এনগেজ হতে হবে, এটি নিশ্চয়ই ভারতের প্রশাসন-নীতি নির্ধারকরা বুঝবেন।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট এখনও নেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট কোনো কারণ নয়। আমার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার দেয়া হয়েছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট যেভাবে কাজ করে সেভাবেই এটি কাজ করার কথা। বাংলাদেশের হাইকমিশনার পুরো সময় পাশে ছিলেন, তিনি তার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি যে পদে আছি, সে পদের প্রতি যথাযথ সৌজনের অভাব ছিল বলে মনে করি। ওইখানে দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর মনে হয়েছে, ব্যাক করব। একটা পর্যায়ে তারা চেয়েছিলেন, প্রবেশ করি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, হয়রানি করা হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছি।

যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে ভারতে নিশ্চয়ই যাব জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে এনগেজ হতে চাই সমমর্যাদার ভিত্তিতে। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে এই সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক করবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্ক যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে, সেগুলো সরিয়ে আমরা এনগেজ থাকতে চাই।

এর আগে রোববার ভারতের ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তিনি। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশ না করেই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এই ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ ঘটনায় পরদিন সোমবার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়াকে তলব করা হয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ