সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়বাংলাদেশেও দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশেও দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন কর্মশালার পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘জ্বালানি সংকট মরার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য পণ্যের উপরও।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে এখনো দাম বাড়ানো হয়নি, তবে কতদিন তা সম্ভব হবে বলা যাচ্ছে না। সরকার জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে চেষ্টা করছে, কিন্তু পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রভাব নিশ্চিতভাবে জনগণের ওপর পড়বে।

এছাড়া তিনি এলডিসি গ্রাজুয়েশন প্রসঙ্গে জানান, নির্বাচিত সরকার ধাপে ধাপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে দেশ গ্রাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত হবে এবং বিষয়টি জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে উপস্থাপন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ