শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়এরশাদ- রওশন মুখোমুখি

এরশাদ- রওশন মুখোমুখি

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন প্রশ্নে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তার স্ত্রী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন কমিশনে ৫ জনের একটি তালিকা পাঠিয়েছেন রওশন এরশাদের অজান্তেই। কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে তালিকা পাঠানোর কারণে এরশাদের ওপর বেজায় চটেছেন রওশন।

এরই মধ্যে এরশাদের ওই তালিকা ঠেকানোর জন্য কমিশনকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন রওশন এরশাদ। তালিকা না দিলেও এরশাদের দেওয়া ওই তালিকা ঠেকানোর জন্যই মূলত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার রওশন এরশাদের দু’জন প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন বলে নির্বাচন কমিশনসুত্র জানিয়েছে।

এরশাদের ঘনিষ্ঠ একটি সুত্র জানিয়েছে, এরশাদ ওই তালিকায় নারী এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন তার ছোট ভাই সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের’র স্ত্রী শেরিফা কাদের, সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার, তার পালিত কন্যা বলে খ্যাত মৌসুমী আক্তার, জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদিকা নাজমা আক্তার ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলামের ভুঁইয়ার স্ত্রীকে।

অন্যদিকে, রওশন এরশাদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভেতরে ভেতরে নাকি ক্ষুব্ধই ছিলেন এরশাদ। এমনকি নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে আপত্তি করার কারণেও রওশনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন এরশাদ। তার কারণেই অনেক কিছু মেনে নিতে বাধ্য হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠরা।

সম্পর্কের যখন টানা পোড়েন চলছিলো ঠিক তখনেই সংসদের বিরোধীদলের নেতা প্রসঙ্গে দু’ই মেরুতে অবস্থান নেন তারা। প্রথমে রওশনকে বিরোধীদল নেতা করার পক্ষেই ছিলেন এরশাদ। কিন্তু পরে মত বদলালেও রওশন তাতে আর সায় দেন নি। এরশাদের মতের বিপক্ষে গিয়েই বিরোধীদলীয় নেতা হন রওশন এরশাদ।

অন্যদিকে এরশাদ মন্ত্রিসভায় অংশ নেওয়ার বিপক্ষে থাকলেও পক্ষে অবস্থান নেন রওশন। এখানে রওশন শিবিরেরই বিজয় হয়।এ নিয়ে যখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছিলো তখনই ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় রওশন তার গাড়িতে দলীয় পতাকা ব্যবহার করেন। একাজ করে এরশাদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন রওশন।

আগের দিন রওশনের বাসা থেকে পার্টির চেয়ারম্যানের গাড়িতে ব্যবহৃত পতাকা চেয়ে পাঠালে এরশাদ পতাকা না দেওয়ার নির্দেশ দেন। কারণ দলীয় পতাকা শুধু পার্টির চেয়ারম্যানের গাড়িতে ব্যবহার করার বিধান রয়েছে। কিন্তু রওশন পার্টির পতাকা ব্যবহার করায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন এরশাদ।

সূত্র জানায়, এরশাদ নাকি রওশনকে ফোন করে তার ক্ষোভও জানিয়েছেন। বলেছেন, তুমি কি পার্টির চেয়ারম্যানও ‍হয়ে গেছো? দলীয় পতাকা কেন ব্যবহার করেছো?

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, সংসদ উপনেতা এবং মন্ত্রিসভায় মনোনয়ন নিয়েও দলে রয়েছে বিরোধ। এরই মধ্যে পার্টির এবং সংসদীয় দলের মুখপাত্র হিসেবে জিএম কাদের ও রুহুল আমিন হাওলাদারের নাম ঘোষণা দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ বিরাজ করছে এমপিদের মধ্যে। কারণ জিএম কাদের এমপি নন, তিনি কেন হবেন সংসদীয় দলের মুখপাত্র?

এ কারণে ১৪ জানুয়ারি এরশাদকে না জানিয়েই পার্টির সংসদীয় দলের সভা করেন রওশন। সেখানে ২৭ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এরশাদ হার্ড লাইনে গেলে তারাও হার্ড লাইনে যাবেন বলে মত দিয়েছেন। এ কারণে ‘নতুন করে কি জাতীয় পার্টি ভাঙতে যাচ্ছে?’– এই প্রশ্নই সামনে চলে এসেছে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ