ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্র এখন একজন ব্যক্তির একগুঁয়ে আচরণের কাছে জিম্মি। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চরমতম কলঙ্কময় প্রহসনের নির্বাচন ছিল ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর তথাকথিত নির্বাচনের তামাশা। গণতন্ত্রের সব বিধি-বিধানের পরিপন্থী, অনৈতিক এবং অবৈধ। মেরুদন্ডবিহীন, অযোগ্য, নির্বাচন কমিশন সরকারের নীল-নকশার নির্বাচনকে বাস্তবায়িত করতে গিয়ে অতীতের সব অজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও হার মানিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ থেকে শুরু করে রোববার নতুন সরকারের শপথ নিতে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অসাংবিধানিক বলে মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেজ্ঞরা। আর এর দায় নির্বাচন কমিশন, স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তাবে বলে অভিমত দিয়েছেন রাজনীতিক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
তিনি বলেন, উদ্ভট, অভিনব, হাস্যকর কায়দায় জাতীয় পার্টিকে কখনো বিরোধী দল, কখনো সরকারের অংশীদার হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিরোধী দলের প্রতি হুমকি-হুঁশিয়ারিতে গণতান্ত্রিক আচরণের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “সমঝোতা, সহনশীলতার পথ তিনি (হাসিনা) চেনেন না। কলঙ্কিত, লজ্জাকর, ধিকৃত প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার করে তিনি এখনো অহংকার ও দাম্ভিকতা দিয়ে সামনের দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান। গণতন্ত্রকে হত্যা করে কোনো স্বৈরাচারী একনায়কই জনগণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়নি, আওয়ামী লীগও সক্ষম হবে না।”
বিবৃতিতে বলা হয়, আজ ৩৯ বৎসর পরে আবার ভিন্ন লেবাসে সেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই তারা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। উদ্ভট, অভিনব, হাস্যকর কায়দায় জাতীয় পার্টিকে কখনও বিরোধীদল কখনও সরকারের অংশীদার হিসাবে দেখিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে প্রতারণা করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১২ জানুয়ারী আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে নতুনভাবে তথাকথিত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পীকার। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার গঠন করতে আহ্বান করেছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি অসাংবিধানিক বলে ইতিমধ্যে সংবিধান বিশেষ্ণরা বলেছেন এবং সংবিধানে লংঘন করার দায় নির্বাচন কমিশন, স্পীকার এবং রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তাবে বলে অভিমত দিয়েছেন রাজনীতিক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞবৃন্দ।
মির্জা আলমগীর তার পাঠানো বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্র এখন একজন ব্যক্তির একগুয়ে স্বৈরাচারী আচরণের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে সংসদকে ব্যবহার করে এভাবেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করার অপচেষ্টা করেছিলো এই দলটি।
তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে মতেই প্রায় ৫০ হাজার নেতা-কর্মী সাধারণ নিরীহ মানুষকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষকে বিনা কারণে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর সাজা দেওয়া হয়েছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে দিয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানির সব অপকৌশল গ্রহণ করেছে। আওয়মী লীগের ক্ষমতা কুক্ষিগত করবার এ হীন কৌশল গণতন্ত্রকামী মানুষ এটা মেনে নেবেনা।




