ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
রাজনৈতিক জীবনে বুধবার প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্র্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ। জাতীয় পার্টি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেল চারটায় জাতীয় পার্টির সংসদীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে পার্টির পক্ষ থেকে রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় সংবাদ সম্মেলনের বিষয় জানানো হয়েছিল। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দলের দফতর সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
১৯৯০ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর টানা চারদফায় এমপি নির্বাচিত হলেও এরশাদপত্নী রওশন ছিলেন গণমাধ্যমবিমুখ। সভা সমাবেশে বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল রওশন এরশাদের কার্যক্রম। এমনকি ১৯৯১ এবং ৯৬ সালের নির্বাচনে পার্টির চেয়ারম্যান কারাবন্দি থাকলেও রওশন এরশাদকে মিডিয়ায় কথা বলতে দেখা যায়নি। এমনটাই দাবি করলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী।
১২ ডিসেম্বর এরশাদ অন্তরালে চলে গেলে আলোচনার পাদ-প্রদীপে আসেন রওশন এরশাদ। এরপর মাঝে-মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়তো, রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হচ্ছেন। এরশাদ চলে যাচ্ছেন দেশের বাইরে।
এরপর মিডিয়াকর্মীরা তার অবস্থান জানার জন্য দিনের পর দিন ধর্ণা দিতে থাকেন তার বাসার সামনে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রওশন এরশাদের বাসার সামনে সাংবাদিকরা অবস্থান করলেও কোনোদিনই তার কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া যায় নি।
তার বাসার সামনে মিডিয়াকর্মীদের অবস্থানকালে বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বের হন রওশন। কিছু জানার জন্য বাসার গেটের সামনে সাংবাদিকরা ভিড় করলেও রওশন গেটের ভেতরে থেকেই গাড়িতে উঠে বসেন। সেখান থেকে সোজা বেরিয়ে যান বঙ্গভবনের উদ্দেশে। গাড়ি ঘিরে থাকা সাংবাদিকদের শত অনুনয়েও একটি বারের জন্যও গাড়ির কাচ নামান নি রওশন।
এর আগে ৩ ডিসেম্বর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং শুরু হয় জাপার রাজনৈতিক নাটক। একদিন পর ৪ ডিসেম্বর বাসায় ফিরে মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন তিনি। আর মন্ত্রীদের ‘পদত্যাগ’ নিয়েও সৃষ্টি হয় ধূম্রজাল।
এ সময় মিডিয়া রওশান এরশাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার পেছনে হন্যে হয়ে ছোটে। কিন্তু তাদের শত চেষ্টাতেও মুখ খোলেন নি সাবেক এই ফার্স্টলেডি। এরশাদের বাসায় যখন এসেছেন, তখনো মিডিয়া তাকে ছেঁকে ধরেছে। কিন্তু রওশন বরাবরের মতোই থেকেছেন নির্বাক।
এদিকে, ২৯২ আসনের ঘোষিত ফলাফলে ৩৩ আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০ জন, আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন জাপার ১৩ জন প্রার্থী। সে হিসেবে দশম জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের তকমা পাচ্ছে জাতীয় পার্টির।
নিয়ম অনুযায়ী দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদেরই হওয়ার কথা সংসদে বিরোধী দলের নেতা। কিন্তু সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী দলের নেতা হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় তৈরি হয় নতুন সংকট। এ অবস্থায় বুধবার রওশনই হচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা। অগত্যা বুধবার বিকেলে জীবনে প্রথম গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন রওশন।
এরশাদ নির্বাচন বর্জন করলেও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচনী মাঠে থেকে যান জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এরশাদের পক্ষে রংপুর-৩ ও লালমনিরহাট-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাও চালান দলের লোকজন। সীমিত আকারের প্রচারণায় রংপুর-৩ আসনে বিজয়ী হন এরশাদ। আর লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে ৬৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৩ আসনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।
প্রথম দিকে শপথ না নেবেন না বলে মনস্থির করলেও পরে আর সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন নি এরশাদ। শপথ না নিলে জেলে যেতে হতে পারে এই আশঙ্কায় মত পাল্টান এরশাদ। সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার আগে নব নির্বাচিত অন্য ৩২ এমপির সঙ্গে কথা বলতে চান রওশন। এ জন্য দুপুরের মধ্যেই তাদের রওশনের বাসভবনে ডাকা হয়েছে বলে জানান তাজুল ইসলাম চৌধুরী।




