মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়পেঁয়াজের দাম কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, কেজি ১৬০ টাকা

পেঁয়াজের দাম কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, কেজি ১৬০ টাকা

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

পেঁয়াজের দাম কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহে কমলেও পরের সপ্তাহে তা লাফিয়ে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। আর একদিনের ব্যবধানে গতকাল রোববার উভয় ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় পেঁয়াজের দাম ছয় গুণ বেড়েছে। দেশের ইতিহাসে পেঁয়াজের দামে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা একদিন আগেও ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। গত জুন মাসে একই পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৫ টাকা ছিল। ঢাকার বাইরেও কোথাও কোথাও চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।পেঁয়াজের কেজি ১৬০ টাকা

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, তৃতীয় দফা অবরোধের কারণে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকায়। পেঁয়াজের এই দাম অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের দাম এত বেশি বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহের অবরোধ শেষে একদিন ফাঁকা থাকলেও যানজটের কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ হয়নি। এ ছাড়া টানা হরতাল-অবরোধের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে তিন গুণ। এতে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, মৌসুম শেষ হওয়ায় দেশি পুরনো পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। নতুন পেঁয়াজ সরবরাহ খুবই কম। এ ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল খুচরায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মিরপুর ১ নম্বর বাজারে ১৫০ টাকা, কারওয়ান বাজারে ১৪০, নিউমার্কেটে ১৫০ থেকে ১৫৫, হাতিরপুলে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা; তেজগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাপ্তান বাজারসহ রাজধানীর অন্যান্য বাজারে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। দাম বৃদ্ধির রেকর্ডে পিছিয়ে নেই আমদনি করা পেঁয়াজ। গতকাল এসব খুচরা বাজারে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশি নতুন পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, চলতি সপ্তাহে অবরোধে সরবরাহ সংকট চরমে পেঁৗছেছে। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায়ও বেড়েছে।নিউমার্কেটের ক্রেতা সফিকুল ইসলাম ও মিরপুরের ক্রেতা জহিরুল আলম অভিযোগ করেন, অন্য পণ্যের দাম অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেশি। পেঁয়াজের টানা চড়া দামের ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। রেকর্ড পরিমাণে দাম বাড়লেও এ সময়ে টিসিবির খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম এর আগে অনেকবার বাড়লেও টানা গত পাঁচ মাসের মতো এতটা ঊর্ধ্বমুখী আর কখনও হয়নি। এর মধ্যে দুই মাসের বেশি সময় পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি ধরে রেখেছে। অথচ গত জুন মাসেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৫ টাকা ছিল। এ সময়ের ব্যবধানে কয়েক ধাপে বাড়তে বাড়তে কেজি এখন ১৬০ টাকায় পেঁৗছল।রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে অবশ্য সব ধরনের পেঁয়াজের দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে রয়েছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার কৃষিপণ্য বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাজেদ সমকালকে বলেন, পচনশীল এ পণ্য বাড়তি দামে বেশি আমদানি করে লোকসান দিতে হচ্ছে। আবার আমদানি কম হলে বাজার অস্থির হয়ে পড়ছে। তবে এসব পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকে দায়ী করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সহিংসতায় ট্রাক না পাওয়ায় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রেখেছে টিসিবি। টিসিবির মহাপরিচালক সরোয়ার জাহান তালুকদার সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ পর্যায়ে রয়েছে। টিসিবি পণ্যের বাজার দাম স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বছরে ২২ লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই দেশে উৎপাদিত হয়। তবুও আমদানি-নির্ভরতায় বাজার অস্থির হয়ে পড়ছে। এখন দাম বাড়ছে সরবরাহ ঘাটতিতে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ