ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। একতরফা নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে মাত্র ৯ আসন বাকি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম এত বেশি সংখ্যক প্রার্থী ভোট গ্রহণের আগেই জয়ী হতে যাচ্ছেন।
এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৪৮ জন এবং ২০০৭ সালের বাতিল হওয়া ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া, শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে (১৯৭৩) নির্বাচনে ১১ জন, জিয়াউর রহমানের সময়ে (১৯৭৯) ১১ জন, এরশাদের সময়ে (১৯৮৮) ১৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার একদিন পর আজ বিকেলে সাড়ে ৪টায় নির্বাচন কমিশন যে তালিকা তৈরি করেছে তাতে বলা হয়েছে- ১৪২টি আসনের প্রার্থীরা ভোটগ্রহণ ছাড়াই নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১২০ জন, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ১৭ জন, জেপি’র (মঞ্জু) ১ জন, জাসদ’র ২ জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ২ জন প্রার্থী। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেছেন, এখন প্রতীক বরাদ্দ চলছে। তাই শনিবার বিকেল ৫টার পর জানা যাবে মোট কতজন প্রার্থী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বিন্দ্বতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট, মহাজোটের সাবেক শরীক জাতীয় পার্টিসহ দেশের অধিকাংশ সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে সরকার একতরফাভাবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে যাচ্ছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), মহাজোটের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ হ ম মোস্তফা কামাল, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, আফম বাহাউদ্দীন (নাছিম), প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন, কাজী কেরামত আলী, শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মহাজোটের সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ আফিল উদ্দীন, মোহাম্মদ নাসিম, এনামুল হক, মহাজোট সরকারের শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, এইচ এন আশিকুর রহমান, নসরু হামিদ বিপু, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ফজলে নূর তাপস, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাভারের ডা. এনামুর রহমান, বেঙ্গল গ্রুপ ও আরটিভির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।




