চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের নয় আসনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে বাকি সাত আসনে একক প্রার্থী থাকায় সেখানে নির্বাচন হবেনা। চট্টগ্রামের চার আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির চার প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দ না দিতে এরশাদের চিঠি দেয়াসহ নানা নাটকীয়তার মধ্যে চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীক নিয়েই লড়বেন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে। এছাড়া ১৪ দলের শরীক দলগুলোরও কয়েকজন নেতা প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের পর চট্টগ্রামের নয়টি আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন ২৫ জন প্রার্থী। রিটার্ণিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী আছে সেসব আসনে নির্বাচন হবে। সেসব আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাডন্ডারী নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ড.মাহমুদ হাসান পেয়েছেন আনারস প্রতীক। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.নাজিম উদ্দিন লড়বেন মোরগ প্রতীকে।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জাতীয় পার্টির এম এ ছালাম লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়বেন মশাল প্রতীক পাওয়া জাসদের নুরুল আক্তারের সঙ্গে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতার মনোনয়ন পত্র ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলম নৌকা, জাসদের আ ফ ম মফিজুর রহমান মশাল, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী হাতুড়ি এবং জাতীয় পার্টির (জেপি-মঞ্জু) প্রার্থী অ আ ম হায়দার আলী চৌধুরী বাইসাইকেল প্রতীকে লড়বেন।
চট্টগ্রাম ৯ (কোতয়ালী-বাকলিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন। ওয়াকার্স পার্টির মোহাম্মদ আবু হানিফ হাতুড়ি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) আলী আহমদ নাজির কুঁড়েঘর এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী আরিফ মঈনুদ্দিন পেয়েছেন টেলিভিশন প্রতীক। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বিএসসি দলীয় নির্দেশে শুক্রবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ লতিফ নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন চৌধুরী। জাসদের মো. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন মশাল প্রতীক।
চট্টগ্রাম ১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামসুল হক চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন লাঙ্গল প্রতীক পাওয়া জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে।
চট্টগ্রাম ১৩ (আনোয়ারা) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী পেয়েছেন নৌকা প্রতীক। লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন জাতীয় পার্টির তপন চক্রবর্তী। বিএনএফ প্রার্থী নারায়ন রক্ষিত লড়বেন টেলিভিশন প্রতীকে।
চট্টগ্রাম ১৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী নৌকা প্রতীকে লড়বেন টেলিভিশন প্রতীক পাওয়া বিএনএফ প্রার্থী জয়নাল আবেদীন কাদেরীর সঙ্গে।
চট্টগ্রাম ১৬ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির (জেপি-মঞ্জু) প্রার্থী অ আ ম হায়দার আলী পেয়েছেন তাদের দলীয় প্রতীক বাই সাইকেল।
চট্টগ্রামের সাত আসনে যারা একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তারা হলেন, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-খুলশী) আসনে আওয়ামী লীগের ডা. আফসারুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে জাসদের মঈন উদ্দিন খান বাদল।




