মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আবারো অবরোধ বাড়ছে, চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত

আবারো অবরোধ বাড়ছে, চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

দেশী-বিদেশী নানামুখী চাপের পাশাপাশি চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে সরকারকে বাড়তি চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে আবারও বাড়ানো হচ্ছে অবরোধ কর্মসূচি। ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায়। অবরোধ কর্মসূচি বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন হওয়ায় ওইদিনও অবরোধ রাখার পক্ষে দলের কয়েকজন নেতা। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ অবরোধ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর গত মে মাসে প্রথম দফা সফরকালে চলমান আন্দোলন স্থগিত রাখে বিএনপি। শুক্রবার রাতে তারানকো দ্বিতীয় দফা ঢাকা সফরে আসেন। পরের দিন শনিবার থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় দলটি। এদিকে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তারানকোর নেয়া উদ্যোগকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার সরে না যাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাই সমঝোতার পাশাপাশি চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তার পদ থেকে সরে না আসার ব্যাপারে এখনও অনড় রয়েছেন। সেক্ষেত্রে তারানকোর নেয়া সমঝোতার উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়েও কারও কারও সংশয় রয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও ভালো অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করে দেয়। নড়েচড়ে বসেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির সর্বশেষ অবস্থান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণার পর রোববার সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে বিএনপি আরও আশাবাদী হয়ে উঠছে। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন করতে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। জাতীয় পার্টির হঠাৎ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য বিরাট ধাক্কা বলেই মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ঘরে-বাইরে নানা সমস্যায় রয়েছে।

তার ওপর চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করা হলে নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে তারা বাধ্য হবে।

সূত্র জানায়, অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর এই সফরে চলমান সংকট নিরসন হচ্ছেই এমনটা জোর দিয়ে কেউ বলতে পারছেন না। তবে তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের। এরই অংশ হিসেবে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি তফসিল পেছানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারানকো। এক ঘণ্টা ৫০ মিনিটের বৈঠকে তারানকো বিএনপির অবস্থান এবং সমঝোতায় পৌঁছতে কতটুকু ছাড় দিতে পারে, তা জানতে চেয়েছেন। এখন পর্যন্ত সমঝোতার জন্য উভয় দল ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। উভয় নেত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করবেন তারানকো।

সূত্র জানায়, সমঝোতার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো লক্ষণ না দেখায় অবরোধ কর্মসূচি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বড় ধরনের উন্নতি বা সমঝোতার কাছাকাছি গেলেই শুধু অবরোধ প্রত্যাহার বা স্থগিত রাখা হতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ