ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
বিএনপি সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান চায় বলে উল্লেখ করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদ। রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সবার অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করে। আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনই ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায় বিএনপি’।
বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক তা বিরোধী দলীয় নেতা বরাবরই চেয়েছেন। দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন পেশাজীবীসহ দেশের নব্বইভাগ মানুষ নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদল বিহীন একতরফা নির্বাচনে সংকল্পবদ্ধ।’
দুর্নীতি, দুঃশাসন, দলীয়করণ, দমন-পীড়নের কারণে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করবে এ কারণে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আবারো আহবান জানাই, আপনি পদত্যাগ করুন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনে নিন, দেশ ও জাতিকে রক্ষা করুন। জনগণ আপনার নিরাপদ প্রস্থানের বিষয়টি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবে। অন্যথায় জনতার আন্দোলনের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে আপনার ক্ষমতার তাসের ঘর বিলীন হয়ে যাবে।’ সব শেষে জনতার বিজয় হবেই বলে বিবৃতিতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপির মুখপাত্র।
অবরোধে নির্যাতন-হামলার তথ্যবিবরণী বিএনপির
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দেশব্যাপী অবরোধের দ্বিতীয় দিন রোববার পর্যন্ত সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নির্যাতনের বিবরণী দিয়েছে বিএনপি। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারাদেশে পুলিশি নির্যাতনে একজন নিহত হয়েছেন, খোঁজ হয়েছেন নয় জন এবং আটক হয়েছেন তিনশ ৮০ জন নেতাকর্মী।
এ ছাড়া দুদিনে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় আহত হয়েছেন পাঁচশ ৫০ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একশ ৫৭ জন নেতকর্মী। দুইদিনের অবরোধে দুই হাজার পাঁচশ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর মধ্যে কুমিল্লা উত্তর জেলায় অবরোধের সমর্থনে বিএনপি মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু বেপারি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশি হামলায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
রাজশাহীতে শনিবার রাতে আওয়ামী, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডাররা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফার কুটিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ির আসবাবপত্র ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
বিবরণীতে বলা হয়, রাজধানীর তেজগাঁও থানার ৩৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর ইসলাম সুমনকে ৪ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লক থেকে র্যাবের সদস্যরা উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে র্যাব ও বিভিন্ন থানায় অনুসন্ধান করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রোকেয়া সুলতানা তামান্নাসহ পুলিশ সাতজনকে আটক করে।
এ ছাড়া শাহবাগ থানার রেলওয়ে কলোনি যুবদল নেতা লিটনকে দুই দিন আগে পুলিশ আটক করে। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের সব জায়গায় যোগাযোগ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিন আদাবর থানা বিএনপি সভাপতি আবুল হাসেমকে পুলিশ আটক করে।
রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় পুলিশ গুলি চালালে মুগদা থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাজল গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া মতিঝিল থানায় মিছিল করার সময় পুলিশ গুলি চালালে যুবদল নেতা নাসিম গুলিবিদ্ধ হন। এদিকে, সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপি অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি করে।
এতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান পাবেল, কলেজ শাখার ছাত্রদলে সাধারণ সম্পাদক সুমেল, যুবদল নেতা মামুন, মোস্তাক, ছাত্রনেতা সাদেক, সেগুলসহ ৪০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয় এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদল অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে হামলা চালালে ৩০ জন আহত হয়। এ সময় জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট ইকবাল, আজাদ, আলামিন, পাবেলসহ ২০ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করে।
খাগড়াছড়িতে পুলিশ যুবদল নেতা আবু সুফিয়ান, দুলাল মিয়া, রুবেল মিয়া, ছাতদল নেতা কামাল হোসেন, জাসাস নেতা মেরাজ, সুমন, শ্রমিকদল নেতা মনির হোসেনকে আটক করে এবং ৫৫ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করে।
রাঙামাটি জেলার বাগাইছড়ি উপজেলায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় ছাত্রদলের সহসভাপতি শিবলুসহ ১০ নেতাকর্মী পুলিশি হামলায় আহত হয়।
বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদর আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, যুবদল নেতা কাউন্সিলর জাকির হোসেনসহ ১৬ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করে। এ ছাড়া ৪০ জন আহত হয়।
বিবরণীতে বিএনপি অভিযোগ করে, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু ও পৌর বিএনপি সভাপতি হুমায়ন কবির পারভেজসহ ১৩ বিএনপি নেতাকর্মীকে র্যাব উঠিয়ে নিয়ে যায়।
এর মধ্যে ১১ নেতাকর্মীকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করা হলেও সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ন কবির পারভেজকে হস্তান্তর করা হয়নি। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার মিরেরসরাই থানায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় পুলিশ জাসাস নেতা এনামুল আজিম, কৃষকদল নেতা ইউসুফ জমিদার, ছাত্রনেতা লিটন, তসলিম, যুবদল নেতা শফিকসহ ১৫ জনকে আটক করে। এ ছাড়া ৫০ জন আহত হয়।
অবরোধের সমর্থনে মিছিল করলে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার যুবদল নেতা মানিকসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় হামলায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি মামলা করে। এর মধ্যে একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়।
ঢাকার সাভার থানায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় পুলিশ হামলা চালালে যুবদল নেতা গোলাম হোসেন ডালিম, কাউন্দিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিজানসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
লালমনিরহাটে মিছিল বের করার সময় হাতীবান্ধা থানা যুবদল নেতা মাইদুল ইসলামসহ পুলিশ ৫ জনকে আটক করে। এতে ২০ জন আহত হয়।
পঞ্চগড়ে মিছিল বের করলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আসাদসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ২৫ আহত হয়।
কুড়িগ্রাম জেলায় মিছিল বের করার সময় বিএনপি নেতা সাহেব আলীসহ পুলিশ তিনজনকে আটক করে। এ ছাড়া ১০ জন আহত হয়।
পাবনায় মিছিল করার সময় বিএনপি নেতা আশরাফুল, নুরু, হাবিবসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের হামলায় ১২ জন আহত হয়।
জয়পুরহাটে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করতে গেল পুলিশ বাধা দেয় এবং বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান, সাইদুল ইসলামসহ সাতজনকে আটক করে। এ ছাড়া ১১ নেতাকর্মী আহত হয়।
মাগুরায় মিছিল করার সময় ছাত্রদল নেতা শিমুল, ইউসুফসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং পুলিশের হামলায় ১১ জন নেতকর্মী আহত হয়।
চুয়াডাঙ্গাতে ছাত্রদল করে বিধায় নয়নের ছোটভাই জমিরকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
মেহেরপুরের গাংনীতে মিছিল করার সময় বিএনপি নেতা আবদুর রশিদ, যুবদল নেতা জিয়াসহ পাঁচজনকে পুলিশ আটক করে। এ সময় পুলিশি হামলায় ১২ জন আহত হয়।
খুলনায় মিছিল থেকে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোল্লা কামরুল ইসলামসহ পুলিশ ১৫ জনকে আটক করে এবং ২৫ জন আহত হয়।
ঝিনাইদহে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাহেদ, যুবদল নেতা মন্টু, শ্রমিকদল নেতা আসাদসহ পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে এবং পুলিশের হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
খুলনা মহানগরে অবরোধের সমর্থনে ছাত্রদল মিছিল বের করলে ছাত্রদল নেতা তামিমসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দিনাজপুরে যুবদলের মিছিল থেকে যুবদল নেতা মানিকসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে ও পুলিশি হামলার কারণে ১০ জন আহত হয়েছেন।
শরীয়তপুরে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় ছাত্রনেতা রুবেল, পিন্টু, ইউসুফ, মামুন, ফারুক, ডনি, শরিফ, বিএনপি নেতা আলী খানসহ ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের হামলায় ২৭ জন আহত হয়।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহীন, বেনু, যুবদল নেতা আহসানসহ ১০ জনকে পুলিশ আটক করেছে এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
অবরোধের সমর্থনে বরিশাল উত্তরে মিছিল করার সময় ছাত্রদল নেতা সবুজ সরদার, বিএনপি নেতা জুয়েল, তালুকদার, কবির সরদার, জসিম, শরিফকে পুলিশ আটক করে। এ সময় ১৫ জন আহত হয়।




