বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ‘অবৈধ’ সম্পদের তথ্য ভিত্তিহীন : আছাদুজ্জামান...

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ‘অবৈধ’ সম্পদের তথ্য ভিত্তিহীন : আছাদুজ্জামান মিয়া

‘অবৈধ’ সম্পদের যেসব তথ্য সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, সেসব ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, তার সকল সম্পদ ‘বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ’ দিয়ে কেনা। সস্ত্রীক দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর তথ্যও ‘সঠিক নয়’ মন্তব্য করে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘চিকিৎসার জন্য’ তিনি সপরিবারে সিঙ্গাপুরে গেছেন।

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর অবস্থানরত আছাদুজ্জামান বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমার এক আনা সম্পদ যদি সামঞ্জ্যপূর্ণ না থাকে তাহলে যে শাস্তি দেবে তা মাথা পেতে নেব। এসময় শনিবার দেশে ফিরবেন বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামানের স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া একটি ফ্ল্যাট আছে তাঁর মেয়ের নামে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে নিজ নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি।

দেশত্যাগ ও দুর্নীতির তথ্য মিথ্যা দাবি করে সাবেক ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব ভিত্তিহীন সংবাদ। বসুন্ধরায় যে সম্পদের কথা বলা হচ্ছে সেটিও অদল–বদল করে পাওয়া। অনেক বছর আগে ওই এলাকায় এক বিঘার মতো জমি কেনা ছিল। তখন আশপাশের সব ডোবা ছিল। ওই এলাকাটি যখন ধীরে ধীরে আবাসিক এলাকায় উন্নীত হয় তখন ওই জমির বদলে ১০ কাঠার একটি প্লট দেওয়া হয়। অনেক আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। এখন সরকারকে বিতর্কিত করতে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কল্পিত তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। আমার সব সম্পদ বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা। বাবার একমাত্র সন্তান হিসেবে পারিবারিকভাবে বেশ কিছু সম্পদও পেয়েছি। সেসবের কিছু বিক্রি করে নতুন করে সম্পদ কেনা হয়েছে। সেসব আয়কর নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। একজন ব্যক্তি এসবের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রীক বিরোধ নিয়েই সে অহেতুক পিছু নিয়েছে। এরপর বিকৃত এবং অতিরঞ্জিতভাবে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার স্ত্রী যদি বৈধ আয়ে কম দামে জমি কিনে অনেক বছর পর বেশি দামে বিক্রি করে এরপর তা আয়কর নথিতে দেখায় সেটা অবৈধ হয়ে যাবে?

দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদের তথ্য বের হওয়ার পর কয়েক দিন ধরে সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামানের সম্পদ নিয়ে চলছে আলোচনা।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি রয়েছে আছাদুজ্জামান মিয়ার নামে। এ ছাড়া আছাদুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর আফতাবনগরে ২১ কাঠা জমি রয়েছে। নিকুঞ্জ ১-এ আছাদুজ্জামানের ছোট ছেলের নামেও একটি বাড়ি রয়েছে।

এ বিষয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আফতাবনগরে ২১ কাঠার প্লটের মধ্যে তাদের মালিকানা রয়েছে ৬ কাঠার। বাকি ১০ কাঠা দুই ছেলের নামে। ৫ কাঠার মালিক শ্যালিকা।

ডিএমপির সাবেক এই কমিশনার দাবি করেন, পেশাগত জীবনে তিনি কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেননি। তবে কয়েক বছর আগেও একটি চক্র তাঁকে বিপদে ফেলতে দুদকে অভিযোগ জমা দিয়েছিল। পরে দুদক অনুসন্ধান করে সত্যতা পায়নি। এখন আবার সেই চক্র তাঁকে বিপদে ফেলতে সক্রিয় হয়েছে উঠেছে।

আছাদুজ্জামানের স্ত্রী আফরোজা জামানের নামে গাজীপুরের কালীগঞ্জের চাঁদখোলা মৌজায় ২০১৭-২০১৯ সালের মধ্যে ১০৬ শতক জমি কেনা হয়। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কৈয়ামসাইল-কায়েতপাড়া মৌজায় আফরোজার নামে ২৮ শতক জমি কেনা হয়েছিল। একই বছর ওই মৌজায় আরও ৩২ শতক জমি কেনা হয় তাঁর নামে।

এসব জমির ব্যাপারে সাবেক ডিএমপি কমিশনার বলেন, কালীগঞ্জে আরো অনেক ক্যাডার অফিসারদের নিয়ে একটি হাউজিং প্রকল্প করার জন্য আমরা কিছু জমি কিনেছিলাম। এখনো ওই জায়গা বছরের আট মাস পানির নিচে থাকে। অল্প দামে এসব কেনা। পরে আর সেখানে হাউজিং প্রকল্প করা যায়নি। অনেকে জমি বিক্রি করে চলে এসেছে। আমরা এখন ওই জমি বিক্রির চেষ্টা করছি। আর বসুন্ধরায় ‘এল’ ব্লকে যে বাড়ির কথা বলা হচ্ছে সেটি করতে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছি। আমার স্ত্রীর নামেও ঋণ আছে। এছাড়া অবসরের পর আমি প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা পেয়েছি। ওই টাকার কিছু অংশ সেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জোয়ারসাহারায় যে জমির কথা বলা হচ্ছে সেটি আমার স্ত্রীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। পূ্র্বাচলে যে আমার স্ত্রী প্রথমে ৭ কাঠার প্লট পেয়েছিল। সেটি ভালো পজিশনে হওয়ায় বিক্রি করে ভালো টাকা পেয়েছি। ওই টাকার একটি অংশ দিয়ে পরে পূর্বাচলের অন্য জায়গায় ১০ কাঠার প্লট কেনা হয়। এরপরও আর কিছু টাকা ছিল। এছাড়া আমার জন্য বাবা ৩০ শতাংশ জমি রেখে গেছেন। বাবার মৃত্যুর পর বোনেরা হেবা করে আরো কিছু জমি আমাকে দিয়েছেন।

চাকরি জীবনে পুলিশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন আছাদুজ্জামান মিয়া। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার। পরে তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

গত মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সরকার অন্ধকারে ঢিল ছুড়তে চায় না। আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেনি। সরকারের নজরে আসার আগে সরকার কীভাবে ব্যবস্থা নেবে?

দুর্নীতি দমন কমিশন আছাদুজ্জামান মিয়ার বিষয়ে তদন্তের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে দুদক কমিশনার জহুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, এসব অভিযোগ কতটুকু সত্য, দুদকের উচিত তা যাচাই-বাছাই করা। কেউ অভিযোগ না দিলেও দুদক নিজ উদ্যোগে এ বিষয়ে তদন্ত করার ক্ষমতা রাখে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ