চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
সন্দ্বীপে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার বাড়িতে হামলা ও সংসদপুত্র ইকবাল পাশা জাবেদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে মঙ্গলবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। তবে প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে হরতালের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার সন্দ্বীপে সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি দলের পৃষ্ঠপোষকতায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সন্দ্বীপে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার একদলীয় নীলনকশার নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনের সহায়তায় সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে গুলিবিদ্ধ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিনি বলেন,‘দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে যেভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে তা একদলীয় সরকারের নগ্নরূপ। এরই অংশ হিসেবে সন্দ্বীপে সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি বলেন, এজন্য কেবল সরকার নয়, প্রশাসনও দায়ী। তাদের বিচারের সম্মুখিন হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা রোববার তার বাড়িতে হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, রোববার বিকেলে ১৫টি মোটর সাইকেল চড়ে আওয়ামী ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এসময় আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার বড় ছেলে জাবেদ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় তারা বাড়িতে ভাংচুর চালায়। পরে জাবেদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায়।
আওয়ামী ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা তার উপর বার বার হামলার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, চারটি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন সময় ১৮টি মামলা দিয়ে আমাকে সন্দ্বীপ থেকে বিতাড়িত করেছে। এরপরও সন্দ্বীপের মানুষ আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেত্রী যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাতে সন্দ্বীপের মানুষ একাত্বতা প্রকাশ করেছে।
আন্দোলন দমিয়ে রাখতে সরকার দলীয় লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন এ সাংসদ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম ফজলুল হক, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




